ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে বিশ্বের তাবড় রাজনৈতিক নেতারা এখন দিল্লীতে। সেখানে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। উঠে আসে পহেলগাঁওয়ে হওয়া সেই নক্ক্যরজনক হামলার প্রসঙ্গও। আর শনিবার ব্রিকস মঞ্চ থেকে একযোগে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করল রাশিয়া-চিন-ইরান। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ফের ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক চাপে ফেলল নয়াদিল্লী।
ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থ সাহায্য, এবং সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করাই এখন ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে ‘দ্বিমুখী নীতি’কেও ব্রিকস প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রথম থেকেই দ্বিচারিতার পথে রয়েছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে সেই ইসলামাবাদকেই কড়া বার্তা দেওয়া হল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ব্রিকস দেশগুলো বলেছে, "আমরা ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যাতে ২৬ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আমরা সন্ত্রাসীদের আন্তঃসীমান্ত চলাচল, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থলসহ সন্ত্রাসবাদের সকল রূপের বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।"
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, "আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি যে, সন্ত্রাসবাদকে কোনও ধর্ম, জাতীয়তা, সভ্যতা বা জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করা উচিৎ নয় এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা সমর্থনকারী সকলকে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জবাবদিহিতার আওতায় এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা জাতিসংঘকে সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় দ্বৈত নীতি প্রত্যাখ্যান করার জন্য আহ্বান জানাই।"
ব্রিকস দেশগুলি যৌথ বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, যে কোনও রূপেরই হোক না কেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিকস মঞ্চে যুবসমাজের ওপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চরমপন্থী মনোভাব ও উগ্রবাদের প্রসার নিয়ে দেশগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, এই ধরণের কর্মকাণ্ড সমূলে উৎপাটিত করারও ঝপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশষগুলি পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং যৌথ লড়াইয়ের বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ বিষয় হল, পাকিস্তানের 'ঘনিষ্ঠ মিত্র' হিসাবে পরিচিত চীন। যথারীতি পহেলগাঁও হামলার পর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন 'বন্ধু'র পাশেই দাঁড়িয়েছিল ড্রাগন। শুধু তাই নয়, অস্ত্র-ড্রোন দিয়ে তারা সাহায্যও করেছিল। অন্যদিকে, ইসলামাবাদকে আবার সমর্থন জুগিয়েছিল ইরানও। কিন্তু এদিন ব্রিকস মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই পহেলগাঁও হামলারই নিন্দা করে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল বেজিং-তেহরান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ পর্যটককে নৃশংস খুন করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি। পাশাপাশি এই অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লী।
প্রসঙ্গত, ব্রিকস দেশগুলো সংঘাত প্রতিরোধ, শান্তি আলোচনা, মধ্যস্থতা এবং সংঘাত-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নারীদের বৃহত্তর অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিকস বলেছে যে, নারীর ভূমিকা বৃদ্ধিতে শান্তি ও উন্নয়ন প্রচেষ্টা মজবুত হবে।

No comments:
Post a Comment