কলকাতা: রেজিনগর উপনির্বাচনে লড়াই না করার সিদ্ধান্ত। প্রার্থী প্রত্যাহার করল বামফ্রন্ট শরিক আরএসপি। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেয় দলটি। দলের তরফে রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ের অভিযোগ, শনিবার স্ক্রুটিনি শেষ হয়ে যাওয়ার পর কমিশনের তরফে জানানো হয়, তাঁদের এতদিনকার প্রতীক কোদাল-বেলচা দেওয়া সম্ভব নয়, পরিবর্তে বালতি প্রতীকেই এই উপনির্বাচনে তাঁদের লড়তে হবে। এরই প্রতিবাদ জানিয়ে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক।
রেজিনগরের প্রার্থী নিয়ে প্রথম থেকেই বামেদের অন্দরে অশান্তি। আসনটি শরিক আরএসপি দাবী করলেও সিপিএম প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একপ্রকার জোর করেই ফ্রন্টের বড় শরিক সিপিএম আসনটি তাঁদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বলে আরএসপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেন। তাই সিপিএমের পাল্টা প্রার্থী দেয় আরএসপি। এমনকি প্রচারও শুরু করেন প্রার্থী বিকাশচন্দ্র মিশ্র।
কিন্তু দলের তরফে অভিযোগ, শনিবার কমিশনের তরফে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রতীক হিসাবে কোদাল-বেলচা ব্যবহার করা যাবে না। আরএসপি চিরকাল এই প্রতীক ব্যহার করে আসছে। এর পিছনে দলের আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। প্রতীক বণ্টনে ষড়যন্ত্র ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবে বলে জানান তপন হোড়।
দলের তরফে সোমবার বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, 'রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ন্যক্কারজনক ভূমিকা গ্রহণ করেছে। বিরোধী দলগুলির প্রতীক বণ্টনই তার সাক্ষ্য বহন করছে। এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, বিজেপির জয়ের পথ সুগম করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে আরএসপির প্রার্থীকে আচমকা গত ১৯ সেপ্টেম্বর, বেলা ২.৩০টার সময় জানানো হল যে, নিয়মের কারণে কোদাল ও বেলচা প্রতীক দেওয়া যাচ্ছে না। স্ক্রুটিনি পর্ব চলাকালীন সময়েও তা বলা হয়নি। আরএসপি প্রার্থীকে প্রতীক না পাওয়ার কারণ হিসেবে যা বলা হয়েছে দল বা প্রার্থী কাউকেই কমিশন নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তির আগে বা পরে সেই বিষয়ে কোনও সতর্কীকরণ বার্তা পাঠায়নি।'
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এভাবে একদিকে নির্বাচন কমিশন অপরদিকে পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি উপনির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করতে চাইছে। তাদের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে এমন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরকেই তারা এই উপনির্বাচনের ময়দানে জায়গা ছাড়তে চাইছে। এসআইআর ট্রাইব্যুনালে এখনও বহু মানুষের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। তাঁরা এবারেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রইলেন। যার দায় নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারে না। এসআইআর থেকে শুরু করে প্রতীক বণ্টন নির্বাচন কমিশনের একের পর এক কাজে দেশ তথা রাজ্যের গণতন্ত্র আজ বিপন্ন।'
সেইসঙ্গে দলের সকল সদস্য-সমর্থকদের কাছে আবেদন, 'এই প্রহসনের উপনির্বাচনে বিরত থেকে গণতন্ত্র বাঁচাতে গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে এগিয়ে আসুন।'
এদিকে আরএসপি প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে রেজিনগরে ভোটের ময়দানে বামেদের হয়ে একচেটিয়া লড়বে সিপিএম। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কি তাদের হয়ে প্রচার করবে আরএসপি? অথবা ভোটবাক্সে কাস্তে-হাতুড়ি-তারায় সমর্থন জানাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। অন্যদিকে, রেজিনগর উপনির্বাচন থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর আগেই প্রচার থেকে সরে গিয়েছেন। অতএব ভোটের ময়দানে এবারে টক্কর হবে কংগ্রেস, সিপিএম, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রার্থীদের সঙ্গে বিজেপির শাখারভ সরকারের।

No comments:
Post a Comment