কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে ডেরেক ও'ব্রায়েনের পর থানায় হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়। ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে আজ বুধবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় তলব করা হয়েছিল তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনকে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে।
এর আগে প্রথম নোটিশে হাজিরা দেননি ডেরেক ও'ব্রায়েন। ইমেইল করে পুলিশের কাছে সময় চেয়েছিলেন তিনি। এরপর দ্বিতীয় নোটিশ দিয়ে তাঁকে ফের ডেকে পাঠানো হয়। আজ তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছিল, তিনি হাজিরা দিলেন শেক্সপিয়র সরণি থানায়। এদিন সকাল ১০টা নাগাদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে থানায় পৌঁছন তিনি। তাঁর জন্য আগে থেকেই প্রশ্নমালা তৈরি রেখেছিল পুলিশ।
ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ এবং পুরকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগও সামনে আসে।
এই ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। জানা গিয়েছে, মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলাতেই মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর সামনে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজও তুলে ধরা হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের দাবী, ফুটেজে অভিষেকের উপস্থিতি স্পষ্ট। এরপর তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। পুলিশের অন্যতম প্রশ্ন ছিল, ওই অফিস আর তৃণমূলের ভাড়া নেওয়া জায়গা না হওয়া সত্ত্বেও কেন সেখানে পুলিশ এবং পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল?
অভিযোগ উঠেছে, সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। কেন এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এবার একই মামলায় ডেরেক ও'ব্রায়েনের ডাক পড়েছে। তাঁকে প্রথমে সোমবার থানায় হাজিরার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ডেরেক অতিরিক্ত সাত দিন সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ সেই সময় দেয়নি। এরপর সোমবারই ফের একটি নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে বুধবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার সকালে থানায় পৌঁছে যান ডেরেক।
জানা গিয়েছে, ডেরেককে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হতে পারে। ঘটনার সময় তাঁর ভূমিকা কী ছিল, কার নির্দেশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা কীভাবে ঘটল? এসব বিষয় জানতে চাইতে পারে পুলিশ।
অন্যদিকে এই ঘটনায় প্রথমবারের জন্য সুমিত রায়কে তলব করেছে পুলিশ। বেলা ১২টার সময় শেক্সপিয়র সরণি থানায় তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তিনিও পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে হাজিরা দিলেন শেক্সপিয়র সরণি থানায়। এদিকে আগামীকাল অর্থাৎ ৩ সেপ্টেম্বর তলব করা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। দুপুর ২টোর সময় তাঁকে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ পুলিশ ও পুরকর্মীদের প্রথমে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এরপর অফিসের ভিতরে পুলিশ পুরকর্মী ও অন্যান্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধর এবং মহিলা পুলিশকর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দু'টিতে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এছাড়াও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনের নাম রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্রতর হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবী, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে। এখন তদন্তে কী উঠে আসে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

No comments:
Post a Comment