কলকাতা: বিজেপির বিরুদ্ধে একজোটের বার্তা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু জোট জল্পনা ভেস্তে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল জাতীয় কংগ্রেস। শুক্রবার রাতে কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান। রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী হচ্ছেন জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। কংগ্রেস রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রার্থী বর্তমানের কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সদস্য। জেলা পরিষদে তিনি বিরোধী দলনেতা। আবদুল্লাহিল কাফি, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের বেলডাঙা এলাকা থেকে নির্বাচিত। সেই জেলা পরিষদের সদস্যের উপরই আস্থা রেখেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত মিলন প্রধানকে প্রার্থী করা হল নন্দীগ্রামে।
উপনির্বাচনে বিজেপি, তৃণমূল এমনকি বামেদের আগেও প্রার্থী ঘোষণা করল কংগ্রেস। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই দুই কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেবেন প্রার্থীরা। এমনটাই জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দু’টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী; একটি ভবানীপুর, দ্বিতীয়টি নন্দীগ্রাম। দু’টি আসনেই জয়ী হন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, একটি আসন ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানেই এখন উপনির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে। সেখানে কংগ্রেস মিলন প্রধানকে প্রার্থী করল।
অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর দু’টি আসনে দাঁড়িয়ে দু’টিতেই জেতেন। নওদা রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। সেই আসনে এবার ছেলেকে প্রার্থী করেছেন হুমায়ুন। রেজিনগরে এবার কংগ্রেস প্রার্থী দিল। আস্থা রাখা হল পুরনো সৈনিক আবদুল্লাহিল কাফির ওপর।
এদিকে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেস এখন প্রার্থী দেয়নি। মমতা নাকি ঋতব্রত শিবির কোন পক্ষের কাছে থাকবে জোড়াফুল প্রতীক, তা নিয়ে এখন দড়ি টানাটানি। জাতীয় নির্বাচন কমিশন প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই তা স্পষ্ট হবে। এ দিকে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমশই তপ্ত হয়ে উঠছে।

No comments:
Post a Comment