ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাত বছর পর ফের ভারতে পা রাখছেন তিনি। শনিবার সকালেই তিনি বেইজিং থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে নয়াদিল্লীতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং শনিবার সকালে বেইজিং ছেড়েছেন।
প্রায় সাত বছরের মধ্যে এটিই জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। স্বাভাবিক ভাবেই কূটনৈতিক মহলে এই সফরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। জিনপিংয়ের এই সফর শুধুমাত্র ব্রিকস বৈঠক ঘিরে নয়, ভারত-চীন সম্পর্কের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দীর্ঘ টানাপড়েনের পর গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কে বরফ ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো, সরাসরি বিমান পরিষেবা ফেরানো এবং কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালুর মতো একাধিক পদক্ষেপে সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিতই মিলেছে।
২০১৯ সালে মহাবলিপুরমে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শি জিনপিং। কিন্তু তার কয়েক মাস পরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভয়াবহ সংঘর্ষে ভারতীয় ও চিনা সেনার মৃত্যু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-য় সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। গালওয়ানের ঘটনার পর শুধু সীমান্ত সম্পর্কই নয়, দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগেও প্রভাব পড়ে। চীনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে ভারত।
এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ভারত-চীন সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যায়। সীমান্তে টহল সংক্রান্ত বোঝাপড়ার পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগও বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালে মোদী-জিনপিং একাধিক বৈঠক এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া সেই প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। তবে সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, এটা বলার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ঘাটতি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং চীন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা এখনও বড় উদ্বেগ।
এসবের মাঝেই ব্রিকসে অংশ নিতে ভারতে এসে পৌঁছলেন চীনের রাষ্ট্রপতি। ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে এখন গোটা বিশ্বের নজর। সীমান্ত পরিস্থিতি, নিয়ন্ত্রণ রেখা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দুই দেশ কেবল সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখবে, নাকি আরও এক ধাপ এগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটবে, এটিই বৈঠকের আসল পরীক্ষা, এমনই মত বিশেষজ্ঞদের।

No comments:
Post a Comment