তৃণমূলের একাংশ বিজেপিতে ঢুকে আছে, বিধায়ক রেখা পাত্রের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের নালিশ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, September 12, 2026

তৃণমূলের একাংশ বিজেপিতে ঢুকে আছে, বিধায়ক রেখা পাত্রের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের নালিশ


নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: পুলিশ আধিকারিককে মারা এবং কলার ধরার কথা স্বীকার করলেন বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। ওই পুলিশ আধিকারিকের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথাও শুক্রবার বারাসতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাশাসকের কার্যালয়ে এসে জানিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবী করলেন। রেখার দাবী, তৃণমূলের অনেকেই ভিতরে ভিতরে যোগদান করছে দলে। তাঁদের সম্পত্তি দখল করছে তৃণমূলের আমলের দুষ্কৃতীরা এখন বিজেপির আশ্রয় প্রশ্রয়ে। 


রেখা পাত্র সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, "ঘটনার দিন থানার মেজো বাবুকে আমি চড় মেরেছিলাম। তাঁর কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি। বলেছি যে দেখুন আপনি সিভিল ড্রেসে ছিলেন। একটা ভুল বোঝাবুঝিতে আমি কলার ধরে ফেলেছি।"


রেখা আরও বলেন, "সিভিল ড্রেসে আর একজন পুলিশ আধিকারিক ক্যামেরা করতে করতে লাথি মারে একজন বিধায়কের গায়ে তাহলে তিনিও তো আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজটা করেছেন। আর আমি ভুলবশত ওনার কলার ধরেছি, জেনে শুনে তো ধরিনি। খাঁকি পোশাক পরে আরও তো অফিসাররা ছিলেন তাঁদের তো আমি গায়ে হাত দিইনি। ওনার কেন দিলাম? "

জমি সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে দলের একাংশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন রেখা। তার কথায়, "ওখানে বুথ সভাপতিরা সবাই গেছেন।‌ আর আমাদের সন্দেশখালি ব্লক ২ এর মন্ডল সভাপতি অর্ণব পাত্র বুথ সভাপতিদের ফোন করে বলে দিচ্ছেন যে রেখা পাত্র আমাদের জানিয়ে যায়নি অতএব রেখা পাত্রর এই ইস্যুতে কেউ যাবেন না। সবাইকে বারণ করে দিয়েছেন অর্ণব পাত্র। আমার দলের কে করেছে কেন করেছে? কিসের জন্য করেছে সেটা স্বার্থের জন্য কি স্বার্থের বাইরে কিছুই জানিনা। রেখার অভিযোগ, গত রবিবার ঘটনাটা ঘটে আবার মঙ্গলবার রাত আনুমানিক আটটা থেকে নয়টায় মুখে গামছা বেঁধে ৩-৪ টে বাইক নিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছে, "বেরিয়ে আয় আগুন নিয়ে খেলা করছিস! " যদিও বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাইনি কিন্তু ওনার অফিসের একজন দাদাকে জানিয়েছি। জানিনা ওনারা কি করবেন। আমি দলে এসেছিলাম এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে করতে। এখনও যদি সেই অন্যায়টা আমাদের সাথে হয়ে চলে তাহলে আমরা বিচার পেলাম কোথায়? আর আমি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। 

রেখা পাত্র আরও বলেন, "দলে আছি বলে আমি রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে ওখানে যায়নি। আমি আমার বাবার সম্পদ বাঁচানোর জন্য মাঠে নেমেছিলাম। আমি কোনও রকম রাজনৈতিক প্রতিনিধি হয়ে যাইনি। খবরটা তো কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমি চাই দল যেন অবিলম্বে আমার জন্য একটু সাহায্য করে। আমি তো আর কোটি কোটি টাকার মালিক নই বিচার না পেলে বাধ্য হয়ে আমাকে আবার মাঠে নামতে হবে। এই লড়াইটা যদি আমার বাবা ২০১৮ সাল থেকে করে আসতে পারে আর এই লড়াইটা আমার বাবার সাথে আমরাও করে আসছি এই জমি ধান তৃণমূলের বাহিনীর থেকে রক্ষা করার জন্য। আর আজকে গিয়ে যদি আমরা সাহায্য না পাই, আমাদের তাহলে মাঠে নামতে হবে আবার নতুন করে। আবার সন্দেশখালি ২০২৪ এর মত করে আন্দোলন নামতে হবে।'


তিনি বলেন, "আশা করছি আমার দল আমাদের সাহায্য করবে। কারণ আমাদের দল আসার সাথে সাথে যেভাবে মানুষের জন্য কাজ করছে নিশ্চয়ই আমার মত একজন অসহায় মেয়ের জন্য করবে।" তবে দলের বিরুদ্ধে রেখা কোন আন্দোলনে যাবেন না তাও জানান এদিন। রেখা বলেন, "দলের বিরুদ্ধে কখনই নামব না। দল কিন্তু অপরাধ করে না দলের কিছু কিছু নোংরা কাল্প্রিট আছে। তাদের জন্য দলের বদনাম হয়। যেটা আমি গত তিন বছরে এই দলে এসে দেখছি। তবে আমি দলের দিকে আঙ্গুল তুলব না এবং আমার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আমি আঙ্গুল তুলব না। আঙ্গুল তুললে লোকালয়ে যারা এই মুহূর্তে আমাদের দল ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে বেলা ১২ টার পরে যারা বিজেপি হয়েছে তারাই এগুলোর সঙ্গে যুক্ত তাদের যেন অবিলম্বে সাটাই-বাছাই করে।'


তিনি আরও বলেন, 'আমি জানি আমি হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা হিসেবে আমি কাউকে যোগদান করাইনি কিন্তু ভিতরে ভিতরে যোগদান হয়ে যাচ্ছে এবং কারা করাচ্ছে সেটা দল তদন্ত করবে। সে তদন্ত করার দায় আমার নয় পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করবে।'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad