নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন সমবায় বিভিন্ন সমবায় ব্যাংক ও সমিতিতে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন বিজেপি বিধায়করা। শুক্রবার বারাসতের জেলাশাসকের কার্যালয়ে জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকদের নিয়ে বৈঠক করলেন জেলার বিজেপি বিধায়করা।
বিধায়ক ও প্রশাসন সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সমবায় দফতরের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি। বিজেপি বিধায়কদের দাবী, বিগত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবাংলায় সমবায় দফতরকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যে সমবায় সমিতি গুলোতে আর্থিকভাবে দুর্নীতি হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের মূল জায়গা সমবায়, সেই সমবায়কে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জেলায় জেলায় মিটিং শুরু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে। যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়ে রয়েছে তার মধ্যে জেলার বিভিন্ন সমবায়ের সম্পত্তি লুটপাট বৃদ্ধি হয়েছে। নাগরিকরা যে টাকা জমা রেখেছে ফেরত পাচ্ছে না। এদিনের বৈঠকে বিধায়করা এই বিষয়গুলি নিয়ে জেলাশাসকের সামনে আনেন।
বৈঠক থেকে মহকুমা ও ব্লক আধিকারিকদের এবং সমবায় দফতরের আধিকারিকদের বার্তা দেওয়া হয় গ্রামীণ স্তরের ক্ষুদ্র চাষী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে রূপরেখা তৈরি করা এবং তাদের টাকা বিভিন্ন সময় যেসব রাজনৈতিক নেতা লুটপাট করে নিয়েছেন তাদের থেকে টাকার পুনরুদ্ধার করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন বিধায়করা। জেলা প্রশাসনকে তাদের পরামর্শ, যারা টাকা দেবে না তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে। সে ক্ষেত্রে বিগত সরকারের নেতা মন্ত্রীরা জড়িত থাকলেও ছাড়া হবে না। পাশাপাশি যেসব সরকারি কর্মচারী অবৈধভাবে লোন পাশ করেছেন তাদের থেকে ক্ষতিপূরণ নেওয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান চাকরির অথবা সে ক্ষেত্রে কোন ছাড় পাবে না।
এদিন হাবড়ার বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল বলেন, "হাবড়ার জায়গাছিতে যে কো-অপারেটিভ টা আছে নির্বাচনের আগে আমার কাছে বহু মানুষ এসেছিলেন যারা কো-অপারেটিভের সাথে যুক্ত। ওই কো-অপারেটিভ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাবড়ার মানুষ হারিয়েছেন। কারা তছরূপ করেছে সেটা আমি মিটিংয়ে বলেছি এবং আমি প্রস্তাব দিয়েছি বা অনুরোধ করেছি মন্ত্রী ও জেলাশাসককে যে এটা একটা অডিট করা হোক। কারণ ওখানে যারা সদস্য আছেন তারা যখনই পয়সা চাইতে যান আন্দোলন করে। যার ২ লাখ আছে পাঁচ হাজার দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেয় । যে মানুষগুলো প্রতারিত হয়েছেন জায়গাছির ওই কো-অপারেটিভের তারা ন্যায়বিচার পাবেন এবং তাদের টাকা ফেরত পাবেন।"
খাদ্য মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, "আপনারা আমার থেকে ভালো জানেন। এটা আলাদা করে বোঝানোর দরকার নেই। সমবায় নিয়ে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে প্রান্তিক মানুষের টাকা মেরে দেওয়া হয়েছে। যারা দুর্নীতি করেছে তাদের প্রত্যেককে হিসাব বুঝিয়ে দিতে হবে না হলে কাউকে ছাড়া হবে না।"

No comments:
Post a Comment