দার্জিলিং: বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু। নব দম্পতি একান্তে সময় কাটাতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছেন দার্জিলিং জেলার সিটংয়ে। আর সেখানেই ঘটে গেল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। সেখানকার হোমস্টেতে বারবিকিউ চলাকালীন আচমকাই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন, ঝলসে গেলেন নববধূ। প্রথমে তাকে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় পরবর্তীতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে ঝলসে গিয়েছেন স্বামীও। আক্রান্ত গৃহবধুর নাম নিকিতা সাহা (দাস) ও তাঁর স্বামীর নাম সমীর দাস।
জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ার বাসিন্দা সমীর ও নিকিতা সম্প্রতি বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাঁরা মধুচন্দ্রিমার জন্য দার্জিলিংয়ের সিটংয়ে যান। সেখানে একটি হোমস্টেতে ছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার রাতে নবদম্পতি হোমস্টের বারান্দায় বসে পাহাড়ের পরিবেশ উপভোগ করছিলেন। তাঁদের সামনেই চলছিল বারবিকিউ তৈরির প্রস্তুতি। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। হঠাৎ ওই ব্যক্তি বারবিকিউতে কোনও একটি কিছু ঢালার পরই আচমকা আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন নিকিতার গায়ে ধরে যায়। আগুন নেভানোর জন্য তড়িঘড়ি চেষ্টা করেন তাঁর স্বামী সমীর। স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর শরীরেরও কয়েকটি অংশ ঝলসে যায়। হোমস্টের ভিতরে তখন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
হোমস্টের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে এই হাড়হিম দৃশ্য। সেখানেই দেখা যায়, বারান্দায় একটি টেবিলের উপর বারবিকিউ রাখা রয়েছে। তার সামনে বসেছিলেন নবদম্পতি। সম্ভবত হোমস্টেরই এক ব্যক্তি তাঁদের জন্য বারবিকিউ তৈরি করছিলেন। সেই সময় ঘটে যায় এই অঘটন। এরপর দ্রুত নবদম্পতিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নিকিতাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। সমীরেরও শরীরের কয়েকটি জায়গা পুড়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিকিতার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ঠিক কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্যে আসা সিসিটিভি ফুটেজে আগুন ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেলেও, ফুটেজটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ।সংবাদমাধ্যমকে হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে তাঁদের অনুমান বারবিকিউতে মাখন জাতীয় কিছু ঢালার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
প্রসঙ্গত, পাহাড় বা ট্রাভেল স্পটগুলোতে ক্যাম্পিং বা বারবিকিউ করার সময় সবসময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া বা ঝড়ো বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

No comments:
Post a Comment