'এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়--', তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজের মাঝেই বড় বার্তা রাহুলের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, September 18, 2026

'এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়--', তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজের মাঝেই বড় বার্তা রাহুলের


তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর এই অন্তর্বর্তীকালীন সিদ্ধান্তের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী । শুক্রবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন যে, শিবসেনা, তারপর ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং এখন তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে তিনি একই ধরণের ধাঁচ দেখতে পাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন প্রথমে একটি রাজনৈতিক দলকে ভাঙতে এবং তারপর তার প্রতীক কেড়ে নিতে আঁতাত করে


রাহুল গান্ধী বলেন যে, যদি একটি গোটা দল চুরি হতে পারে, তাহলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের ভোট চুরি হওয়াটা আশ্চর্যজনক নয়। তাঁর বিবৃতিতে তিনি "ভোট চুরি, সরকার চুরি এবং এখন দল চুরি"-কে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, কমিশনের কাজ হল জনগণের রায় রক্ষা করা, কিন্তু কমিশন জনগণের সিদ্ধান্তকে উল্টে দেওয়ার শক্তিকে সাহায্য করছে।



রাহুল গান্ধী বলেন যে, এই লড়াই শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জির নয়। এটা প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশী প্রতিটি ভোটারের জন্য। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের ওপর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিবাদ এবং দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর বিষয়টি নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত পৌঁছায়। উভয় পক্ষই দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীকের দাবী করে। নির্বাচন কমিশন জানায় যে, উভয় গোষ্ঠীই নিজেদের আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবী করছে এবং এই বিবাদের বিস্তারিত শুনানি প্রয়োজন।


নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার অধীনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীকে সাময়িকভাবে 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' নাম এবং সংরক্ষিত 'জোড়াফুল' নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নন্দীগ্রাম এবং রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন উপনির্বাচন আগামী ৬ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। দুই শিবিরই তৃণমূলের নাম-প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। 


কমিশনের মতে, দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্বাচনী প্রতীক আদেশের ১৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিস্তারিত কার্যবিবরণীর প্রয়োজন। যেহেতু উপনির্বাচন আসন্ন, তাই এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন উভয় শিবিরকেই ভিন্ন ভিন্ন নাম এবং একটি স্বাধীন নির্বাচনী প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। দুই শিবিরই তাদের নামে মূল দল 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস'-এর সঙ্গে তাদের সংযোগের কথা উল্লেখ করতে পারবে। কমিশন উভয় পক্ষকে অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের জন্য তিনটি বিকল্প জমা দিতে বলেছে।


কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে ১৮ই সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে তাদের পছন্দের তিনটি নাম এবং তিনটি উন্মুক্ত নির্বাচনী প্রতীক, অগ্রাধিকারের ক্রমানুসারে, জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর কমিশন তালিকা থেকে নিজ নিজ পক্ষের প্রার্থীদের জন্য উপলব্ধ উন্মুক্ত নির্বাচনী প্রতীকগুলোর মধ্যে একটি বরাদ্দ করতে পারত। চূড়ান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad