নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় ১৪ বছর আগে পাড়ি দিয়েছিলেন কেরালায়। আর সেখানেই ঘটে গেল চরম বিপর্যয়। মৃত্যু হল বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিকের। সাগরের মনসা দ্বীপের যুবক সুব্রত ভূঁইয়া। পেঁপের দায়ে পাড়ি দিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু আচমকাই নেমে এল চরম বিপর্যয়। কেরালায় কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল ৩৮ বছর বয়সী সুব্রতর। তাঁর পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ১৪ বছর ধরে কেরালার তালেশ্বরীতে একটি ঠিকাদারি সংস্থার অধীনে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন সুব্রত। প্রায় এক সপ্তাহ আগে কাজ চলাকালীন আচমকাই তাঁর পেট ও বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশই অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর।
সুব্রত ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে কার্যত অথৈ জলে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী সুষমা ভূঁইয়া-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। রবিবার সাত সকালে কেরালা থেকে সুব্রতর নিথর দেহ গ্রামে এসে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শেষবারের মতো ঘরের ছেলেকে দেখতে মনসা দ্বীপে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রিয়জনকে হারানোর শোকে স্তব্ধ গোটা এলাকা।
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন সুব্রত। কিন্তু ১৪ বছরের সেই পরিযায়ী জীবনের শেষে নিথর দেহ হয়েই ফিরতে হল তাঁকে নিজের গ্রামে। শোকে স্তব্ধ তাঁর গোটা পরিবার।

No comments:
Post a Comment