ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এই সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। শনিবার আয়ারল্যান্ডে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই যুদ্ধের শীঘ্রই অবসান ঘটবে। তিনি দাবী করেন, নির্বাচনকে কঠিন করে তোলার জন্য ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনের মধ্যে টেনে আনার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং তেলের দাম দ্রুতগতিতে কমে আসবে। যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন প্রত্যাশিত।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনও আঞ্চলিক পুলিশম্যানের প্রয়োজন নেই। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। পেজেশকিয়ান বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং এর সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব এই অঞ্চলের দেশ ও প্রধান শক্তিগুলোর নিজেদেরই হওয়া উচিৎ। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং এই সংঘাত চালিয়ে যেতেও চায় না। তিনি বলেন, সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইরানের প্রথম অগ্রাধিকার হল শান্তি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধটি ২৮শে ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল। মার্কিন ও ইদরায়েলি হামলায় ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর, ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইরান বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে। পূর্বে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে যেত। এই কৌশলগত পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অবরোধ তেলের দামের ওপর চাপ বাড়িয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব এখন বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এই সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল কিন্তু তা স্বল্পস্থায়ী ছিল এবং শীঘ্রই ভেস্তে যায়। তারপর থেকে আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কমলেও সংঘাত পুরোপুরি শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনও সুস্পষ্ট প্রস্থানের পথ দেখায়নি।

No comments:
Post a Comment