ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: গালওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম ভারতে এসেছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। ব্রিকসে অংশ নিতে শনিবার তিনি দিল্লীতে এসেছেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পর চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং বলেছেন, "জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যেখানে অসংখ্য পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাতে বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দুটি দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চীন ও ভারতের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। মানবজাতির ভবিষ্যৎ এবং নিজ নিজ জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে, উভয় পক্ষেরই বৃহত্তর ব্রিকস কাঠামোর মধ্যে উচ্চমানের সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করা উচিৎ। আমাদের একটি ন্যায়সঙ্গত ও সুশৃঙ্খল বহুকেন্দ্রিক বিশ্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পক্ষে কথা বলা উচিৎ, যাতে বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি প্রসারে আরও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করা যায়।"
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শি জিনপিং দুই নেতাই ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে তাঁদের শেষ বৈঠকের পর থেকে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবিচলিত অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দুই দেশেরই তাঁদের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিৎ। মতপার্থক্যকে বিবাদে পরিণত হতে দেওয়া উচিৎ নয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, উভয় পক্ষকে তিনটি "পারস্পরিক" নীতি মেনে চলতে হবে; পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থ।
চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং সাত বছর পর ভারতে এসেছেন। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদা। গালওয়ান সংঘর্ষের পর এটিই শি-এর প্রথম ভারত সফর। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পর, তিনি আজ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও বাণিজ্য অব্যাহত ছিল। চীন থেকে ভারতের আমদানি, যা ২০২০-২১ সালে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছিল, তা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে ১৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর অর্থ হল, গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকে চীন থেকে আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে।

No comments:
Post a Comment