নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: বংশ পরম্পরায় চলে আসছে মৃৎশিল্পের কাজ। সেই শিল্পের হাত ধরেই মাটির মূর্তিতে প্রাণের ছোঁয়া দেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীসত্তাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন বসিরহাট আশ্রমপাড়ার শিল্পী অনন্যা বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে মৃন্ময়ী দেবী দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তুলছে তাঁর পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া মেয়ে পারিধি বিশ্বাস। বলা ভালো এভাবেই মৃৎশিল্পে হাতেখড়ি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের।
অনন্যা বিশ্বাস শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি গৃহবধূ। তাঁর স্বামী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এবং শ্বশুর প্রসেনজিৎ বিশ্বাসও বংশ পরম্পরায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সেই শিল্পীসত্তাই মা-মেয়ের কাছে অনুপ্রেরণা। মাটির তাল থেকে ধীরে ধীরে দেবীর রূপ ফুটিয়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। কখনও তৈরি হচ্ছে দেবীর হাত, কখনও চোখ, আবার কখনও শরীরের বিভিন্ন অংশ। মৃন্ময়ী রূপকে চিন্ময়ী করে তোলার এই কাজেই দিনরাত এক করে ব্যস্ত মা-মেয়ে।
ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ পারিধির। রং-তুলি ও ক্যানভাসে দেবী দুর্গা, কালী, গণেশ, সরস্বতী-সহ বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি ফুটিয়ে তুলেছে সে। মায়ের সঙ্গে প্রতিমা তৈরির কাজেও সমান আগ্রহে হাত লাগায় পঞ্চম শ্রেণির এই পড়ুয়া। অনন্যা বিশ্বাস জানান, সারা বছর বিভিন্ন সময় বিশ্বকর্মা, গণেশ, দুর্গা থেকে কালী—বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা তৈরি করেন তাঁরা। তাঁর কথায়, ঘর থেকে যখন প্রতিমা মণ্ডপে চলে যায়, তখন মনের মধ্যে এক ধরণের আবেগ কাজ করে। আর বিসর্জনের দিনে সেই আবেগ আরও গভীর হয়, চোখে জল চলে আসে।
তাঁদের হাতে তৈরি একচালা প্রতিমা ও বিভিন্ন ধরণের দুর্গাপ্রতিমা ইতিমধ্যেই রামকৃষ্ণ মিশন থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত এবং রাজ্যের নানা জায়গায় পৌঁছেছে বলে পরিবারের দাবী।
মা অনন্যার হাত ধরে মৃৎশিল্পের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে মেয়ে পারিধিও। আগামী দিনে শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন তার। মা-মেয়ের এই শিল্পচর্চায় মৃন্ময়ী প্রতিমা যেন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে চিন্ময়ী—নতুন প্রজন্মের শিল্পীসত্তার এক নতুন দিগন্ত।


No comments:
Post a Comment