নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম বর্ধমান: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি চুরির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। তৃণমূল নেতাকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ, চলল ডিম থেরাপি। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার আনন্দপুর এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম বিশ্বনাথ মাঝি। পুলিশ তাঁকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযোগ তৃণমূল জামানায় দুর্গাপুরের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত নডিহা সংলগ্ন আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা তৃণমূল নেতা বিশ্বনাথ মাঝি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি মিলবে বলে ফর্ম ফিলাপ করান। এমনকি সরকারি বাড়া পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বাড়ি না পাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয় উপভোক্তাদের মধ্যে।
বিক্ষোভকারীদের দাবী, সম্প্রতি অনলাইনে আবাস যোজনার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, নামের পাশে প্রকল্পের স্ট্যাটাস সাকসেসফুল দেখাচ্ছে। অথচ তাঁরা কোনও পাকাবাড়ি পাননি, বদলে অন্য ভুতুড়ে লোক পেয়ে গেছেন বাড়ি। এরপরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। বিশ্বজিৎ মাঝিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। বিক্ষোভের মধ্যেই তাঁর মাথায় একের পর এক ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে এলাকাতেও ঘোরানো হয়।
বিক্ষোভকারী সুষমা বাগদির অভিযোগ, “আমাদের নামে বাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা বাড়ি পাইনি। আমাদের বাড়ি দিতে হবে। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটব।" নাম নথিভুক্ত হলে তো টাকাও এসেছে। সেই টাকা কোথায়, কার কাছে গেল? ওই মোটা টাকা কারা আত্মসাৎ করল? সেই প্রশ্নও উঠছে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ মাঝি। তাঁর দাবী, “সেসময় অনেকের নাম নথিভুক্ত হয়েছিল। সেই কারণে আইডি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কে কাকে বেছে বেছে ঘর দিয়েছে, তা আমি জানি না।" এমনকি কার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল, কে টাকা তুলে নিয়েছে, সেটা দেখতে হবে বলেও পাল্টা দাবী জানান তিনি।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোকওভেন থানার পুলিশ। আক্রান্ত ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment