বন্যার জমা জলে পড়ে মৃত্যু ছোট্ট শিশুর, জলমগ্ন ভূতনির একাধিক গ্রাম - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, September 13, 2026

বন্যার জমা জলে পড়ে মৃত্যু ছোট্ট শিশুর, জলমগ্ন ভূতনির একাধিক গ্রাম


নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: গঙ্গার জলস্তর বেড়ে মালদহের ভূতনিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। ভাঙা বাঁধ দিয়ে হুহু করে জল ঢুকে প্লাবিত একের পর এক গ্রাম। বাড়িতে ঢুকে পড়েছে জল। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নৌকা বেয়ে যেতে হচ্ছে। সেই ভূতনিতে বন্যার জলে পড়ে মৃত্যু হল পাঁচ বছরের এক শিশুর। খেলতে গিয়ে বাড়ির মধ্যে জমে থাকা জলে পড়ে মৃত্যু হয় ছোট্ট সামিউর রহমানের। শনিবার বিকেলে ভুতনি উত্তর চন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সামিরুদ্দিনটোলার দুর্ঘটনাটি ঘটে। 


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ির ছাদে খেলছিল ছোট্ট পাঁচ বছরের সামিউর। হঠাৎই সবারই অগোচরে একেবারে বাড়ির ছাদ থেকে নেমে সিঁড়ি বেয়ে। সেই সময় বাড়িতে জমা জলেই পড়ে যায় সামিউর। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গঙ্গার জল বাড়ার পর থেকেই ভূতনির অন্য বাসিন্দাদের মতো সাফিউরদের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে ওঠে। বাড়ির একতলা প্রায় জলের তলায়। পরিবারের সকলে আশ্রয় নিয়েছেন দোতলায়। আর সিঁড়ি থেকে নামার সময়েই পড়ে যায় ছোট্ট সাফিউর। জমা জলে অনেকক্ষণ পড়ে ছিল সে। খোঁজ মিলছিল না। 


খবর পেয়ে প্রতিবেশী ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে সবশেষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও। কিন্তু অভিযোগ, তাঁরা দেরিতে পৌঁছেছিলেন। এছাড়াও খবর পেয়ে ভূতনি থানার পুলিশ নৌকার মাধ্যমে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ছোট্ট সামিউরকে উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সামিউরকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ছোট্ট সামিউরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া গ্রাম জুড়ে।


উল্লেখ্য, এই নিয়ে ভূতনিতে বন্যার জলে ডুবে তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলল। শনিবারই উত্তর চণ্ডীপুরের নাজিরুদ্দিন টোলা গ্রামের বাসিন্দা অনিকুল হক নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাশের এক গর্তে পড়ে যান তিনি। তাঁকে যতক্ষণে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়, ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। 


এখনও ভূতনির একাধিক গ্রাম জলের তলায়। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিস্তীর্ণ এলাকায় আবাদি জমি জলের তলায়। কোথাও কোথাও রাস্তাতেও জল উঠেছে। ভূতনির পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতির উপর নজর রেখেছে মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের কাজও চলছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রশাসন। পরিস্থিতি যেন দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেই আশায় রয়েছেন গ্রামবাসীরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad