ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশের অভিযোগের খবরের মাঝেই চীনকে সতর্ক করেছে ভারত। ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের সেনাবাহিনীর এই ধরণের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ভারত এও সতর্ক করেছে যে, ভবিষ্যতে যেন এই ধরণের কার্যকলাপের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। প্রতিবেদন লাইভ হিন্দুস্তান হিন্দির।
এর আগে, রবিবার এই বিষয়ে উভয় দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পূর্বাঞ্চলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকটি গভীর রাত পর্যন্ত চলে। সূত্রমতে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং-এ চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশের সাম্প্রতিক খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ। অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় অংশে ওয়াচা-দামাই বৈঠকস্থলে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ভারতীয় পক্ষের নেতৃত্ব দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩য় কোরের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গিরিশ কালিয়া। চীনা পক্ষেও একই পদমর্যাদার আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন।
এই বৈঠকটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গত মাসে এনএসএ অজিত ডোভালের বেইজিং সফরের পর সামরিক কমান্ডারদের এই বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় ডোভাল চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডারদের এটিই ছিল প্রথম বৈঠক।
চীনের প্রতি ভারতের কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এসেছে যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সপ্তাহে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে অনুষ্ঠিত এই সামরিক সংলাপটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শুরুতে একটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) অনিল চৌহান বলেন যে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ অমীমাংসিত রয়েছে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) অবস্থা নিয়ে কোনও সম্পূর্ণ চুক্তি হয়নি, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শুধুমাত্র সীমান্ত বিরোধের বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
প্রাক্তন সিডিএস বলেছেন, "সীমান্ত সমস্যা এখনও মীমাংসা হয়নি, এমনকি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) কোনও পারস্পরিকভাবে সম্মত সংজ্ঞাও নেই। চীন ও ভারত এশিয়ার দুটি প্রধান শক্তি, বৃহৎ অর্থনীতি ও প্রাচীন সভ্যতার দেশ। দুই দেশের সম্পর্ককে শুধুমাত্র সীমান্ত বিরোধের বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।" জেনারেল (অব.) চৌহান বলেন যে, যেহেতু দুই দেশ একে অপরের সাথে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা করে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তাই চীনের সাথে সংলাপ ও যোগাযোগ বজায় রাখা অপরিহার্য।

No comments:
Post a Comment