জল পানের পরেও তৃষ্ণা মেটে না? বুঝুন শরীরের এই সংকেতগুলো - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, September 7, 2026

জল পানের পরেও তৃষ্ণা মেটে না? বুঝুন শরীরের এই সংকেতগুলো

 


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: তৃষ্ণা শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। গরমে থাকার পর, অতিরিক্ত ঘাম হলে বা ব্যায়ামের পর জল পান করলে সাধারণত স্বস্তি মেলে। তবে, যদি আপনার গলা বারবার শুকিয়ে যায় বা জল পানের অল্প সময়ের মধ্যেই আবার জল পানের তাগিদ অনুভব করেন, তবে এটিকে কেবল গরমের ফল বলে উড়িয়ে দেওয়া উচিৎ নয়। কখনও কখনও, এটি শরীরের জল এবং প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের ভারসাম্যের সমস্যার কারণে হতে পারে। কিছু পরিস্থিতিতে তো প্রচুর জল পান করার পরেও তৃষ্ণা থেকে যেতে পারে। এমনটা কেন হয় এবং শরীর কেন এমন সংকেত পাঠায়? এর বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে।


অতিরিক্ত জল পান করলেও ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে-

শরীরের শুধু জলেরই প্রয়োজন হয় না। সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্লোরাইডের মতো ইলেক্ট্রোলাইটগুলোও শরীরে জলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন কোনও ব্যক্তি অল্প সময়ের মধ্যে খুব বেশি জল পান করেন, তখন শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটগুলো, বিশেষ করে সোডিয়াম, অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যেতে পারে। এটি শরীরের জল এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। শরীর এই পরিবর্তন বুঝতে পারে এবং তৃষ্ণার সংকেত দেয়, যা ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে। এর মানে হল, বেশি জল পান করাই তৃষ্ণা মেটানোর সঠিক উপায় নয়।


অতিরিক্ত জল পান করাও একটি সমস্যা হতে পারে-

অতিরিক্ত জল পানের কারণে সৃষ্ট একটি বিরল অবস্থাকে হাইপোন্যাট্রেমিয়া বা ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বলা হয়। অতিরিক্ত জল পান করলে রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। শরীরের তরল ভারসাম্যের জন্য সোডিয়াম অপরিহার্য। এর পরিমাণ খুব কম হলে কোষ ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে এবং শরীরের স্বাভাবিক তরল ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, তৃষ্ণাসহ অন্যান্য উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তবে, এই অবস্থাটি সচরাচর দেখা যায় না। তাই, জল পানের পর শুধু তৃষ্ণা লাগাকেই ওয়াটার ইনটক্সিকেশন বলে মনে করা সঠিক হবে না। যখন অতিরিক্ত জল পানের সাথে ক্রমাগত, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা বা অন্যান্য উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখা দেয়, তখন সমস্যাটিকে আরও গুরুতর বলে মনে করা হয়।


সব ধরণের জল থেকে কি একই রকম হাইড্রেশন হয়?

জলের প্রধান কাজ হল শরীরের তরলের ঘাটতি পূরণ করা, কিন্তু জলে থাকা খনিজ পদার্থগুলোও শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। কিছু জলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ থাকে, আবার অন্যগুলোতে এই পরিমাণগুলোর ঘাটতি থাকতে পারে। তবে, ক্রমাগত তৃষ্ণার কারণ হিসেবে শুধু জলের খনিজ উপাদানকে দায়ী করা সঠিক নয়। শরীরের জলীয় চাহিদার পরিমাণ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে এবং তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।


গরম ও ব্যায়ামের পর তৃষ্ণা কেন বাড়তে পারে?

আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড গরমে থাকেন অথবা ব্যায়ামের সময় প্রচুর ঘামেন, তাহলে আপনার শরীর থেকে শুধু জলই নয়, কিছু ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, জল পান করার পরেও কিছুক্ষণ তৃষ্ণা থেকে যেতে পারে। এই কারণেই তৃষ্ণাকে শরীরের একটি সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতিরিক্ত ঘাম, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায়, শরীরের তরলের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং আপনার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জলের প্রয়োজন অনুভব হতে পারে।



কিছু ওষুধও তৃষ্ণা বাড়িয়ে দিতে পারে-

ঘন ঘন তৃষ্ণা সবসময় জলশূন্যতার কারণে হয় না। কিছু ওষুধ, বিশেষ করে যেগুলো শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়, সেগুলো শরীরের তরলের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে জল পান করা সত্ত্বেও ক্রমাগত তৃষ্ণা লাগতে পারে। কোনও ওষুধ শুরু করার পর যদি তৃষ্ণা বেড়ে যায়, তবে নিজে থেকে তা বন্ধ না করে এ বিষয়ে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলাই ভালো।


কখন এটিকে স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিৎ নয়?

গরমে, ঘামের পর বা দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রমের পর তৃষ্ণা লাগা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে, যদি কোনও আপাত কারণ ছাড়াই আপনার ক্রমাগত তৃষ্ণা লাগে এবং জল পান করেও তার উপশম না হয়, তবে এর কোনও শারীরিক কারণ থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, শুধু ঘন ঘন জল পান করাই সমাধান নয়। বিশেষ করে যদি এই সমস্যাটি চলতে থাকে বা এর সাথে অন্য কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad