নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর দিনাজপুর: দীর্ঘদিন পর নিজের পুরনো বিধানসভা এলাকায় পা রাখতেই চরম বিক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক গৌতম পাল। উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির ঘটনা। ডিম থেরাপি থেকে শুরু করে গণপিটুনির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। করণদিঘি ব্লক অফিসে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় বিডিও অফিস চত্বর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে মঙ্গলবার বিডিও অফিসে যান প্রাক্তন বিধায়ক। সেই সময় একদল মহিলা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগ, এরপরই তাঁর উদ্দেশ্যে ডিম ছোড়া হয়। এমনকি প্রাক্তন বিধায়কে উদ্দেশ্য করে চোর স্লোগান দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন গৌতম পাল। সেই সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে তাঁর প্যান্ট খুলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিডিও অফিস চত্বরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় করণদিঘি থানা ও জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী।
জানা গিয়েছে, সংখ্যালঘু দপ্তরের বরাদ্দ করা কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম পালের বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর নিয়মিত তোলাবাজি এবং দুর্গাপুজোর নামে বলপূর্বক মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের নালিশও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। 'পথশ্রী' সহ বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ না হওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারদের বিলে অনুমোদন পাইয়ে দিয়ে তিনি টাকা লুঠ করেছেন বলেও অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, তৎকালীন আইসি সৌমজিৎ রায়কে শারীরিক নিগ্রহ করা এবং জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনারও অভিযোগ রয়েছে প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ পাচারের সিন্ডিকেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে এই গৌতম পালের বিরুদ্ধে।
এদিকে এদিনর এই ঘটনা প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।"
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর গৌতম পালকে এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি বলে স্থানীয়দের দাবী। এদিন তাঁর হঠাৎ আসাকে কেন্দ্র করেই জনসাধারণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বলে দাবী স্থানীয় সূত্রে।

No comments:
Post a Comment