কলকাতা: দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা সংগঠন নির্বাচন কমিশনের একটি রায়েই শেষ হয়ে গেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখোমুখি দুই শিবিরকেই নতুন ও পৃথক নাম-প্রতীক দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবারে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রতীক এবং দলের নাম নিয়ে শুক্রবার কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পরেই নিজেদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন এনিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনকে কার্যত তুলোধোনা করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে জানিয়েছিলেন, দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার তিনি ছাড়বেন না। সেইমতোই শুক্রবারেই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো। সূত্রের খবর, জোড়াফুল প্রতীক কেড়ে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তিনি মামলা দায়ের করেছেন। তাতে যুক্ত করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁরা মনে করছেন, কমিশন একটা অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারে। তবে যেহেতু প্রতীক এবং দল তাঁদের, তাই তাঁরা আশাবাদী ছিলেন যে, কমিশনের রায় তাঁদের পক্ষে যাবে। কিন্তু দেখা যায় কমিশনের বৃহস্পতিবারের অন্তর্বর্তী আদেশ অনুসারে, কেউই আপাতত জোড়াফুল প্রতীক ও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবেন না।
ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই সদ্য অবলুপ্ত তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয় মুষলপর্ব। জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জনই নিজেদের 'নতুন' তৃণমূল বলে দাবী করে মমতা শিবির থেকে বেরিয়ে যান। দ্বিধাবিভক্ত দলে নাম, প্রতীক ও তহবিল নিয়ে শুরু হয় টানাপোড়েন। দুই শিবিরই দলের নাম, প্রতীক, তহবিল হাতে রাখতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় এবং নিজেদের প্রমাণ পেশ করে। কিন্তু কমিশন দীর্ঘদিন কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। শেষমেশ ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার এই প্রতীক যুদ্ধের অবসান ঘটে। এদিন দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন জানায়, জোড়াফুল প্রতীক ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কোনওটিরই অস্তিত্ব নেই। মমতার শিবিরের নাম 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস', তাদের প্রতীক 'ফুটবলার'। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম 'ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস', তাঁদের প্রতীক 'খাম'। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের এই নাম-প্রতীকেই দুই শিবিরকে লড়তে হবে।
এরপর এদিন বিকেলেই মমতা সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দলের পরিচয় হারানোর এই ঘটনাকে সন্তানহারা মায়ের যন্ত্রণার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং এটিকে দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি "কালো দিন" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "একজন মা সন্তান হারানোর বেদনা বোঝেন, এবং একজন সন্তানও মা হারানোর বেদনা বোঝে। যারা সংগ্রামের মাধ্যমে এই সংগঠনটি গড়ে তোলেননি, তারা সেই আবেগঘন বন্ধনটি বুঝতে পারবেন না।"
পাশাপাশি জানান, নিজের হাতে গড়া দল ও প্রতীকের অধিকার তিনি ছাড়বেন না, শেষপর্যন্ত লড়ে যাবেন। যেমন কথা তেমন কাজ, শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment