বিনোদন ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বায়ুদূষণ শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দূষিত হাওয়ায় শ্বাস নিলে ফুসফুস, শ্বাসনালী, চোখ সহ শরীরের নানান অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। তবে, যুক্তরাজ্যের কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের বিজ্ঞানীদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তাঁরা দাবী করেছেন যে, যারা দূষিত হাওয়ায় শ্বাস নেন, তাদের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা আসার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। 'জার্নাল অফ এপিডেমিওলজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায়, মানুষের মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বায়ু দূষণের প্রভাব বোঝার জন্য বিশ্বজুড়ে ২৯টি প্রধান গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের গবেষকরা বায়ু দূষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে এই বিপজ্জনক সংযোগটি বোঝার জন্য একটি বড় গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এই প্রভাব সম্পর্কে গভীর ধারণা পেতে, বিজ্ঞানীরা বিশ্বজুড়ে ২৯টি প্রধান গবেষণা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণায় ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, তাইওয়ান, জাপান এবং কলম্বিয়ার মতো জায়গার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, বাতাসে উপস্থিত বিষাক্ত কণাগুলো কেবল আমাদের ফুসফুসকেই ক্ষয় করে না। এটা সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ককেও আক্রমণ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণা, যেমন পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। আশ্চর্যজনকভাবে, এই কণাগুলোর স্বল্পমেয়াদী সংস্পর্শও আত্মহত্যার চিন্তা বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। দীর্ঘমেয়াদী নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডের সংস্পর্শে বিষণ্ণতা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় বলে দেখা গেছে।
এছাড়াও, গবেষণায় দেখা গেছে যে, বায়ু দূষণের পাশাপাশি আর্সেনিক, সীসা এবং লিথিয়ামের মতো ভারী ধাতু দ্বারা দূষিত জলও স্নায়বিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং স্নায়ুর ক্ষতির কারণ হয়, যা পরবর্তীতে বিষণ্ণতার মতো অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। গবেষকরা সালফার ডাইঅক্সাইড, ওজোন এবং এমনকি যানবাহনের শব্দকেও মানসিক চাপের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হল আত্মহত্যা।
অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ পপুলেশন হেলথের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ু দূষণ এবং মানসিক অসুস্থতার মধ্যে যোগসূত্র বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণাটি একটি প্রাথমিক, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন পর্যন্ত ধারণা করা হতো যে, দূষিত বায়ু কেবল হৃদরোগ এবং ফুসফুসের রোগের কারণ, কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট যে এটি সমাজের মানসিক কাঠামোকেও ক্ষয় করছে। তাই, শুধু স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ সুরক্ষাকেও অগ্রাধিকার দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

No comments:
Post a Comment