নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা: জঙ্গলের মধ্যে তোয়ালে মোড়ানো রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে সদ্যোজাত। শরীরে থিক থিক করছে পিঁপড়া, গরু আনতে গিয়ে কান্নার আওয়াজ শুনে উদ্ধার করলেন গৃহবধূ। প্রকৃত মায়ের নিষ্ঠুরতাকে ছাপিয়ে গেল আরেক মায়ের মমতা। হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে।
জঙ্গলের মধ্যে তোয়ালে মোড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে সদ্যোজাত। একরত্তির শরীর রক্তমাখা অবস্থায়। বোঝাই যাচ্ছে প্রসবের পরেই ওই সদ্যোজাতকে ফেলে দেওয়া হয়েছে জঙ্গলে। লাল পিঁপড়ে থিক থিক করছে গায়ে। পাশেই গরু আনতে গিয়েছিলেন এলাকার গৃহবধূ। সেই একরত্তির কান্না শুনে তাকে উদ্ধার করেন তিনি। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার লক্ষীপাড়া এলাকার এই ঘটনায় মঙ্গলবার জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় গৃহবধূ শঙ্করী দাস রোজকার মতোই বাগানে গিয়েছিলেন গরু আনতে। সেই সময় তিনি জঙ্গল থেকে অস্পষ্ট বাচ্চার চাপা কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। সেখানে গিয়েই তার চক্ষু চড়ক গাছ। দেখা যায়, তোয়ালে মোড়া রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে এক সদ্যোজাত। তার শরীর জুড়ে লাল পিঁপড়া। কেঁদে ওঠে মায়ের মন। সাথে সাথে ওই সদ্যোজাতকে বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। তাকে পরিষ্কার করে সেবা-শুশ্রূষা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। চিকিৎসার জন্য নিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ওই সদ্যোজাত বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কথা শিশু সুরক্ষা দফতরকে জানানো হয়েছে। শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাকে শিশু সুরক্ষা দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সদ্যোজাতকে কে বা কারা জঙ্গলের মধ্যে ফেলে রেখে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্রও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া শিশুটি সুস্থ হওয়ার পর তার সমস্ত দায়িত্ব নিতে চাইছেন শঙ্করী। গৃহবধূর কথায়, "আর কিছুক্ষণ দেরি হলেই একরত্তিকে কুকুর-শিয়ালে খেয়ে নিত। কিছুক্ষণ পরেই ওই বাগানে শিয়ালের দল আসে। কোনও মা কীভাবে এরকম করতে পারেন, ভাবতেই পারছি না।" পাশাপাশি এলাকার মানুষ ওই একরত্তির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

No comments:
Post a Comment