বাড়তি স্ক্রিন টাইমে চোখের ক্ষতি, যত্ন নেবেন যেভাবে - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, September 30, 2026

বাড়তি স্ক্রিন টাইমে চোখের ক্ষতি, যত্ন নেবেন যেভাবে


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাব বা টিভি—দৈনন্দিন জীবনে স্ক্রিনের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। পড়াশোনা, কাজ, বিনোদন কিংবা যোগাযোগ—বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। এর ফলে অনেকেরই চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে স্ক্রিন ব্যবহারে কিছু সচেতনতা জরুরি।


দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখলে কী সমস্যা হতে পারে?

একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার হার কমে যেতে পারে। ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে চোখ শুষ্ক, চোখ জ্বালা বা চোখে অস্বস্তি হতে পারে। দীর্ঘ সময় কাছ থেকে স্ক্রিন দেখলে চোখে চাপ অনুভূত হওয়া, সাময়িক ঝাপসা দেখা, চোখ ভার লাগা বা মাথাব্যথাও হতে পারে। তবে স্ক্রিনের আলো সরাসরি চোখ নষ্ট করে দেয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। সমস্যা কমাতে মূলত একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় কমানো, বিরতি নেওয়া এবং সঠিক দূরত্ব ও আলো বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।


চোখের যত্নে মেনে চলুন কয়েকটি নিয়ম-

২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে প্রায় ২০ সেকেন্ড তাকান। এতে কাছের কাজে চোখের একটানা চাপ কিছুটা কমানো যায়।


বারবার চোখের পলক ফেলুন: স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সচেতনভাবে বেশি বার চোখের পলক ফেললে চোখের পৃষ্ঠ আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।


সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন: ফোন বা ট্যাব চোখের একেবারে কাছে এনে ব্যবহার না করে আরামদায়ক দূরত্বে রাখুন। কম্পিউটার মনিটরও এমনভাবে রাখুন যাতে ঘাড় ও চোখে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।


আলোর দিকে নজর দিন: অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন। ঘরের আলো এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতার মধ্যে অতিরিক্ত পার্থক্য না রাখাই ভালো।


একটানা ব্যবহার কমান: দীর্ঘ সময় কাজ বা পড়াশোনা করতে হলে মাঝেমধ্যে উঠে একটু হাঁটুন, দূরে তাকান এবং চোখকে বিশ্রাম দিন।


ঘুমের আগে স্ক্রিন সময় কমান: রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘক্ষণ ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে ঘুমের সময়সূচি ঠিক রাখতে স্ক্রিন ব্যবহারে সংযম জরুরি।


শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

শিশুদের পড়াশোনা ও বিনোদনে স্ক্রিনের ব্যবহার বাড়ছে। তাই তাদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সীমা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বাইরে খেলাধুলা এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার দিকে অভিভাবকদের নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার প্রয়োজনে স্ক্রিন ব্যবহার করলে মাঝেমধ্যে বিরতি দেওয়ার অভ্যাসও তৈরি করতে হবে।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

স্ক্রিন ব্যবহারের পর সাময়িক চোখের ক্লান্তি সাধারণত বিশ্রাম নিলে কমে যায়। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ ঝাপসা হওয়া, চোখে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অস্বস্তি, বারবার মাথাব্যথা, চোখের সামনে নতুন করে ভাসমান দাগ বা আলোর ঝলক দেখা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে অবহেলা না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।


স্ক্রিন আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও চোখের সুস্থতার জন্য সচেতন ব্যবহারই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। তাই দীর্ঘক্ষণ একটানা স্ক্রিনে না তাকিয়ে নিয়মিত বিরতি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক অভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুললে সমস্যা অনেকাংশে হ্রাস হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad