কলকাতা: মিড-ডে মিলে ইসকন-যোগে ছন্দপতন। মিড ডে মিলের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ইসকনকে। বিকাশ ভবন থেকে এই বিষয়ে জেলায় জেলায় পৌঁছেও গিয়েছে নির্দেশ। আবার আগের মতোই মিড ডে মিলের দায়িত্ব রাজ্য সরকার নিজেই নিল বলে সূত্রের খবর। রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার আসতেই স্কুলে স্কুলে মিড ডে মিলে পুষ্টিযুক্ত খাবার দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসকনকে। প্রথমে কলকাতায় পরে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মিড ডে মিলের দায়িত্ব পায় ইসকনের 'অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন'। সূত্রের খবর, এবার সেই মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ইসকনকে।
দফতর সূত্রে খবর, অক্ষয় পাত্রের তরফে ১১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে স্কুলগুলিতে খাবার সরবরাহের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর আগস্টে অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন এবং পিএম পোষণ প্রকল্পের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খাবার সরবরাহের কাজ কার্যকর ভাবে শুরু হওয়ার আগেই অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
গত ২১ আগস্ট 'অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন'-কে হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের স্কুলে স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, সেই অনুমোদন বাতিল করল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশ লিখিত ভাবে পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারই আগের মতো ওই স্কুলে মিড ডে মিল দেবে। যদিও কলকাতার ক্ষেত্রে আপাতত দায়িত্ব থাকছে 'অন্নামৃত ফাউন্ডেশন'-র হাতে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকাশ দফতরের তরফ থেকে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে 'অক্ষয়পাত্র ফাউন্ডেশন'-কে দেওয়া অনুমোদন প্রত্যাহার করা হল। সূত্রের খবর, কলকাতার মতো জেলাতেও মিড ডে মিলের দায়িত্ব পাবে 'অন্নামৃত ফাউন্ডেশন'। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাতেও আগের মতো নিরামিষ খাবার দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। শুধু ডিম দেবে রাজ্য সরকার।
হঠাৎ কেন অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের অনুমোদন বাতিল করা হল, এই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেওয়া সিদ্ধান্তই ওই চার জেলাকে জানানো হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশ এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আলাদাভাবে ডিম দেওয়ার খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
তাঁদের মতে, বাজেটের ঘোষণা অনুসারে প্রাথমিকে ১০ টাকা ও উচ্চপ্রাথমিকে ১০ টাকা ১৭ পয়সা রয়েছে। এর মধ্যে আলাদা করে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। দফতরের এক আধিকারিকের দাবী, প্রথমে ঠিক হয়েছিল ডিমের বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট সংস্থার থেকেই নেওয়া হবে। পরে এই নিয়ে আর কোনও কথা হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত বদলের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পিএম পোষণ প্রকল্পের খাবার সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কও সামনে আসছে। কলকাতার কয়েকটি স্কুলে 'অন্নামৃত ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর খাবার দেরিতে পৌঁছনো এবং নিরামিষ খাবার নিয়ে অভিযোগ ওঠে। পরে পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করে সরকার। নির্ধারিত সময়ে খাবার না পৌঁছনোর অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছিল।
আরও একটি বিষয় এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মিড-ডে মিল সরবরাহের প্রসঙ্গে ইসকনের নাম সামনে আসার পর হাইকোর্টে মামলা হয়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে আগস্টে ইসকন মামলাকারীকে চিঠি দিয়ে জানায়, কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনের হাতে নেই। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের কোনও এলাকায় মিড-ডে মিল বিতরণের কাজের সঙ্গেও ইসকন সরাসরি যুক্ত নয় বলে দাবী করা হয়।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরেই কলকাতার একটি বড় অংশের স্কুলের মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়। রাজ্য জানিয়েছিল, এই ব্যবস্থা সফল হলে পরবর্তীকালে অন্যান্য এলাকাতেও তা চালু করা হতে পারে। কলকাতায় অন্নামৃত ফাউন্ডেশন মিড ডে মিলের দায়িত্ব সামলায়। কলকাতার বাইরে নানা জেলার স্কুলে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়া হয়েছিল। আর এবার তাঁদের দেওয়া সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হল। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মিডডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পে খাবার সরবরাহ নিয়ে সিদ্ধান্ত বদল করল রাজ্য সরকার।

No comments:
Post a Comment