কলকাতা: পুজোর আগেই রাজ্যে উপনির্বাচন। রাজ্যের দুই কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের এই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। রবিবারেই এই দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এর ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা ঋতব্রত-তৃণমূলের। সোমবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। রেজিনগরে ঋতব্রত-তৃণমূল প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ এবং নন্দীগ্রামে প্রার্থী মহম্মদ এতেসামুল হক। বঙ্গ রাজনীতি তাকিয়ে ছিল এই ঘোষণার দিকে। বলা বাহুল্য আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে লড়াই আরও তীব্র রূপ নিল।
এদিন দলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুই কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। দলের নির্বাচনী প্রতীক কার হাতে যাবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে। তবে সেই অনিশ্চয়তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ঋতব্রত-শিবির। ঋতব্রত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, তাঁদের প্রার্থীরা 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' (এআইটিসি)-র নামেই প্রচার চালাবেন এবং সেই পরিচয়েই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
১৪ সেপ্টেম্বর একটি সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রার্থী ঘোষণা করে 'ঋতব্রত তৃণমূল'। এ ছাড়াও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেবেন প্রার্থীরা। এরপর ঋতব্রতকে বলতে শোনা যায়, "আমরাই তো অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা তো অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকেই প্রার্থী দেব। প্রার্থী আজ ঘোষণা করা হল। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের মিটিং হয়েছে। তারপরই আমরা প্রার্থী ঘোষণা করলাম। বাকি কারও দায় দায়িত্ব আমরা নিতে পারব না।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা যেটা বারবার বলেছিলাম, যে ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যেহেতু তিনি এবারের নির্বাচনের জিততে পারেনি, গত বছরের মতোই এবং খুব দুঃখজনক ভাবে নিজের পাড়ায়, নিজের বুথে, নিজের ওয়ার্ডে, নিজের বিধানসভায় পরাজিত হয়েছেন, তাই আমাদের মনে হয়েছিল অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আবার উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন। সেই নন্দীগ্রাম, যেখানে তিনি গত বছর হেরে গিয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবে আমাদের বক্তব্য ছিল যদি ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতেন, আমরা আমাদের প্রার্থী পদ ওঁর সমর্থনে তুলে নিতাম।"
তৃণমূল কংগ্রেসে দলের প্রতীক ও স্বত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে নির্বাচন কমিশনে। আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর মমতা শিবিরের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। কার হাতে প্রতীক যাবে, সে বিষয়ে কোনও স্থগিতাদেশ জারি করেনি কমিশন। এরই মাঝে দুই শিবির থেকেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হল।
প্রসঙ্গত, আগামী ৬ অক্টোবর এই দু'টি কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার। এরপর ৯ অক্টোবর হবে ফল ঘোষণা। রবিবারেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে তাঁদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে আর রেজিনগরে প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী।

No comments:
Post a Comment