কলকাতা: উপনির্বাচনের মুখেই বড়সড় ধাক্কা, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে অন্য প্রতীকে লড়তে হবে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের। কোনও পক্ষই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না, নির্দেশ কমিশনের। কী নাম এবং প্রতীকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে নির্বাচনে লড়াই করতে চায় দুই পক্ষ, আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তা কমিশনকে জানাতে হবে।
বৃহস্পতিবার 'মমতা তৃণমূল' এবং 'ঋতব্রত তৃণমূলে'র সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক হয় কমিশনের। এরপরই রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হল। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস দলের নাম এবং তাদের জোড়াফুল প্রতীকচিহ্নটি ফ্রিজ করে দেওয়া হল।
এদিকে নির্বাচনের কমিশনের নির্দেশিকা 'বেআইনি' বলে উল্লেখ করে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "অর্ডারটি বেআইনি। আমরা মানছি না। এবার যা করার, আমরা করব। কিন্তু যদি প্রতীক বাছতে হয়, সকাল ১১টা পর্যন্ত সময় আছে। আমরা এই অর্ডার গ্রহণ করছি না। বেআইনি জিনিসও সাময়িকভাবে মেনে নিতে হয়, তেমন এটাও মানতে হবে।”
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামানের বক্তব্য, "নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। হাতে সময় কম থাকায় তড়িঘড়ি নির্দেশ দিতে হয়েছে কমিশনকে। তবে মামলার শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীক আমাদের কাছেই থাকবে বলে আমি বিশ্বাসী।”
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ফাটল। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পুরনো বিশ্বস্ত সঙ্গীরাও, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে বিদ্রোহী এক গোষ্ঠী। দুই শিবিরই নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বলে দাবী করে। এমতাবস্থায় কে আসল আর কে আসল নয়, এই নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। দল ও দলের প্রতীক জোড়াফুল নিয়ে কার্যত দড়ি টানাটানি চলছিল। নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় দু'পক্ষই। লক্ষ্মীবারেই মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের ডাক পড়ে কমিশনে এবং দুই শিবিরের সঙ্গে বৈঠক হয়। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক এদিন রাতেই ফ্রিজ করল নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য, শনিবার কালীঘাট এবং ঋতব্রত দুই তৃণমূলের বক্তব্যই শুনেছে কমিশন। শনিবার দুই শিবিরের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকের পর ঋতব্রত শিবিরকে নিজেদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু নথি জমা দিতে বলেন জ্ঞানেশ কুমাররা। সেই নথির ভিত্তিতেই লক্ষ্মীবার ফের তাঁদের তলব করা হয়। আর এই বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল এই অন্তর্বতী নির্দেশ।

No comments:
Post a Comment