ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। ভারতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যেকার বন্ধুত্ব ভারতকে নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে পাস হওয়া 'রাশিয়ান স্যাংশনস বিল'-এ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন। তারা দাবী করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন দেশগুলোর তালিকায় ভারতকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হোক। রাশিয়া এবং তার সঙ্গে বাণিজ্যরত দেশগুলোকে নিশানা করে এই আইনটি আনছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিলটি পাস হলে, ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
আমেরিকার এই কাণ্ড নতুন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতকে বেশ কয়েকবার নিশানা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে। এই বিষয়টি উল্লেখ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছিল। যদিও ভারত বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা তাদের জ্বালানির চাহিদা এবং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বিলের অধীনে ভারত, চীন এবং অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছে।
এই বিলটি গত মাসে মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে। এখন এটি প্রতিনিধি পরিষদে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গেছে, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে এই বিলটি আনা হয়েছিল। গ্রাহাম ছিলেন ভারতের একজন কট্টর সমালোচক এবং তিনি ভারতের ওপর ভারী শুল্ক আরোপের পক্ষে ছিলেন। তিনি এই বছর মারা যান। এর পরে, মার্কিন সিনেট ৮৬-১১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে 'লিন্ডসে ও. গ্রাহাম আইন' অনুমোদন করে। এই বিলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল রাশিয়ার জ্বালানি খাত এবং তার 'শ্যাডো ফ্লিট' বা গোপন জাহাজবহরকে ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবী, রাশিয়া গোপনে তেলের ব্যবসা করার জন্য এটি ব্যবহার করছে।
৩রা নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে, মার্কিন আইনপ্রণেতারা এই বিলে বেশ কয়েকটি বড় সংশোধনী এনেছেন। ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার দাবী করেছেন যে, বিলটিতে সরাসরি ভারতের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হোক। বিলটিতে মূলত অন্য কোনও দেশের নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র "রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী দেশগুলোর" তালিকা ছিল। তবে, এখন ভারত ও চীনকে আলাদাভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবী উঠেছে।
ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ারও একটি সংশোধনী এনেছেন, যেখানে তিনি বিলটিতে ভারত ও চীনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার দাবী জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনা ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা উচিৎ এবং তাদের ওপর ১০০ শতাংশ ঘশুল্ক আরোপ করা উচিৎ। এই দেশগুলোর মধ্যে ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান সামিল রয়েছে।

No comments:
Post a Comment