কলকাতা: রাজ্যের দুই আসনে উপনির্বাচন। তৃণমূল-সহ বাম-কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এবারে প্রার্থী ঘোষণা করল পদ্ম শিবির। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। মঙ্গলবার এই মর্মে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দিল্লীর বিজেপি নেতৃত্ব। আজ দুপুরেই হলদিয়ায় মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা তাঁর। মনোনয়নে থাকবে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছেলেকে নিয়ে শোকের মাঝেও প্রার্থী হয়ে খুশি হাসিরানি রথ। মঙ্গলবার সকালে সুখবর পেয়ে রেয়াপাড়ার জানকীনাথ মন্দিরে তিনি পুজো দিয়েছেন। তাঁকে দল ভরসা করেছে, সংগঠন সঙ্গে রয়েছে, জিতবেনই, আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান তিনি।
রেজিনগর আসনের জন্যও বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখানে শাখারব সরকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখায় নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে। এদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবির রেজিনগর আসনটি শূন্য করায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়েছে।
ছাব্বিশের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর – জোড়া আসনে জেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনটি হাতে রেখে ছেড়ে এসেছিলেন নন্দীগ্রাম। গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে বিরোধী দলনেতা হয়েছিলেন। ছাব্বিশে নিজের চেনা গড় তিনি ছেড়ে এলেও মনে করা হচ্ছিল, ঘনিষ্ঠ কাউকে এই আসন থেকে ভোটে জিতিয়ে আনতে পারে বিজেপি। সেইমতো বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে জল্পনা ছিল। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল, অঞ্জন পালরা প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে থাকলেও সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের। তিনি নিজেও জানিয়েছিলেন, পরিবারের অভিভাবক শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তিনি প্রার্থী হতে রাজি।
এদিন সেইসব জল্পনার অবসান ঘটল। বিজেপির ঘোষিত তালিকা থেকে জানা গেল, হাসিরানি রথই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়বেন বিজেপি প্রার্থী হয়ে।
এই খবর জানতে পেরে তিনি রেয়াপাড়ার জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দেন। সঙ্গে ছিলেন সেচ মন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল-সহ একাধিক নেতৃত্ব। ঘনিষ্ঠ মহলে জানান, তাঁকে ভরসা করে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করায় দলকে ধন্যবাদ। সংগঠন তাঁর সঙ্গে আছে, বড় ব্যবধানে জিতবেন। প্রসঙ্গত, হাসিরানি ১৯৮৮ সাল থেকে রাজনীতি করেন। পঞ্চায়েতে অন্তত ৫ বার জনপ্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিজেপি বিগত দুটি নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে নন্দীগ্রাম আসনটি জিতেছে। দুইবারই বিজয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরবর্তীকালে, ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পবিত্র করও তাঁর কাছে হেরে যান। পূর্বে নন্দীগ্রামকে টিএমসি-র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
নন্দীগ্রাম আসনে তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মুখোমুখি হবেন হাসিরানি রথ। কংগ্রেস, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং বামেরাও এই আসনে প্রার্থী দিয়েছে।


No comments:
Post a Comment