বিঘ্নরাজ সংকষ্টী চতুর্থীর দিনে অবশ্যই করুন এই কথা-পাঠ, মিলবে পূজা-ব্রতর পূর্ণ ফল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, September 29, 2026

বিঘ্নরাজ সংকষ্টী চতুর্থীর দিনে অবশ্যই করুন এই কথা-পাঠ, মিলবে পূজা-ব্রতর পূর্ণ ফল


বিনোদন ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজ মঙ্গলবার অর্থাৎ ২৯শে সেপ্টেম্বর আশ্বিন কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া তিথি। এদিন তৃতীয়া তিথি থাকবে বিকেল ৫টা ১১ মিনিট পর্যন্ত। হর্ষন যোগ থাকবে রাত ৩:২০ পর্যন্ত। এছাড়াও, অশ্বিনী নক্ষত্র আজ সকাল ৯:০৪ টা পর্যন্ত থাকবে, তারপরে ভরণী নক্ষত্র শুরু হবে। পাশাপাশি এদিন সংকষ্টী শ্রী গণেশ চতুর্থীর ব্রত পালন করা হবে। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই এই বিঘ্নরাজ সংকষ্টী চতুর্থী ব্রত পালন করা একটি রীতি। এই ব্রতটি ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করা হয়। এই দিনে ভগবান গণেশের পূজা করলে ভক্তদের সমস্ত কষ্ট দূর হয় এবং গৃহে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। ভক্তরা এই ব্রত পালন করেন এবং ভগবান গণেশের বিঘ্নরাজ রূপের পূজা করেন। চন্দ্রদয়ের পর চন্দ্রের পূজা করে সংকষ্টী চতুর্থীর ব্রত ভঙ্গ করা হয়। মান্যতা রয়েছে, আপনি যদি বিঘ্নরাজ সংকষ্টী চতুর্থী ব্রত পালন করে থাকেন, তবে অবশ্যই এই পৌরাণিক কাহিনীটি পাঠ করুন, তবেই আপনি ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ করবেন।


২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর পঞ্চং-

আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের তৃতীয়া তিথি - ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫:১১ পর্যন্ত


হর্ষন যোগ - ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাত ৩:২০ পর্যন্ত


অশ্বিনী নক্ষত্র - ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯:০৪ পর্যন্ত


সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ বিশেষ - সংকষ্টী শ্রী গণেশ চতুর্থী




পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, একদা বানাসুরের কন্যা ঊষা ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমের মধ্যে তিনি অনিরুদ্ধকে স্বপ্নে দেখেন। তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি এতটাই হতাশ হয়ে পড়েন যে শান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁর সখী চিত্রলেখাকে দিয়ে ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত মানুষের ছবি আঁকিয়ে নেন। ছবিতে অনিরুদ্ধকে দেখে তিনি বললেন, "আমি স্বপ্নে এই ব্যক্তিকে দেখেছি। তাঁর সাথেই আমার বিয়ে হয়েছিল।" তিনি তাঁর সখীকে বললেন, "সখী! এই মানুষটি যেখানেই থাকুক না কেন, তাঁকে খুঁজে বের কর। নইলে আমি বিরহে জীবন ত্যাগ করব।" সখীর পরামর্শে চিত্রলেখা বহু জায়গায় অনুসন্ধান করে দ্বারকায় এসে পৌঁছালেন। অসুরীয় মায়া সম্পর্কে অবগত চিত্রলেখা সেখানে অনিরুদ্ধকে চিনতে পারলেন, তাঁকে অপহরণ করলেন এবং রাতে অনিরুদ্ধকে তাঁর বিছানাসহ নিয়ে বানাসুরের নগরে প্রবেশ করলেন।


এদিকে, পুত্রের শোকে প্রদ্যুম্ন এক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুত্র প্রদ্যুম্ন ও নাতি অনিরুদ্ধের বিয়োগে কৃষ্ণও শোকে মুহ্যমান ছিলেন। রুক্মিণীও শোকে কাঁদতে লাগলেন এবং ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কৃষ্ণকে বললেন, “হে প্রভু! কেউ কি আমাদের প্রিয় নাতিকে অপহরণ করেছে? নাকি সে নিজের ইচ্ছায় কোথাও চলে গেছে? আমি আপনার সামনেই শোকে মরে যাব।” রুক্মিণীর কথা শুনে কৃষ্ণ যাদবদের সভায় উপস্থিত হলেন। সেখানে তিনি লোমষ্ণ ঋষির সঙ্গে দেখা করলেন। কৃষ্ণ ঋষিকে সমস্ত ঘটনাটি খুলে বললেন। কৃষ্ণ লোমশ ঋষিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে ঋষি! আমাদের নাতিকে কে নিয়ে গেছে? নাকি সে নিজের ইচ্ছায় চলে গেছে? ছেলের বিচ্ছেদে তাঁর মা খুব শোকার্ত।”


লোমশ মুনি বললেন, "হে কৃষ্ণ! বানাসুরের কন্যা ঊষার সখী চিত্রলেখা তাঁকে অপহরণ করে বানাসুরের প্রাসাদে লুকিয়ে রেখেছে। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীতে তোমার এই ব্রত পালন করা উচিৎ। এই ব্রত পালন করলে তুমি অবশ্যই তোমার পৌত্রকে ফিরে পাবে।" শ্রীকৃষ্ণ লোমশ ঋষির পরামর্শ অনুযায়ী ব্রত পালন করলেন এবং এই ব্রতের প্রভাবেই তিনি বানাসুরকে পরাজিত করলেন। ভগবান কৃষ্ণ বানাসুরের হাজার বাহু কেটে ফেললেন। এই সাফল্যের কারণ ছিল এই ব্রতের প্রভাব। বলা হয় যে এই ব্রত সমস্ত দুঃখ দূর করে দেয়। এমনকি বড় বড় পণ্ডিতরাও এই ব্রতের মহিমা বর্ণনা করতে পারেন না।




বি.দ্র:এখানে প্রদত্ত তথ্য সাধারণ বিশ্বাস ও লোককথার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। প্রেসকার্ড নিউজ এর সত্যতা নিশ্চিত করে না।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad