বিনোদন ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ঘড়ি আমাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী। সকাল থেকে রাত—সময়ের হিসাব রাখতে ঘড়ির দিকে তাকানো একটা অভ্যাসে। কিন্তু জানেন কি, বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত কিছু বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘড়ির অবস্থান, দিক এমনকি এর অবস্থা নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু নিয়ম? আজ্ঞে হ্যাঁ, বাস্তু মতে, ঘড়ি শুধুমাত্র সময় জানানোর বস্তু নয়। এর চলমান কাঁটা সময়ের প্রবাহের প্রতীক। তাই ঘড়ি কোথায় রাখা হচ্ছে এবং সেটি ঠিকমতো চলছে কি না, তারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
উত্তর ও পূর্ব দিকের গুরুত্ব
বাস্তু মতে, বাড়ির উত্তর ও পূর্ব দেওয়ালে ঘড়ি রাখা শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, উত্তর দিক সমৃদ্ধি ও সুযোগের সঙ্গে এবং পূর্ব দিক নতুন সূচনা ও ইতিবাচকতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এই দুই দিকে ঘড়ি রাখাকে অনেকেই পছন্দ করেন।
থেমে থাকা ঘড়ি বাড়িতে নয়
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা ঘড়ি বাড়ির দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা বাস্তু মতে ভালো বলে মনে করা হয় না। থেমে থাকা ঘড়িকে অনেক সময় স্থবিরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ঘড়ি নষ্ট হলে যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করে নেওয়া বা ব্যবহার না করলে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভুল সময় দেখানো ঘড়িও এড়িয়ে চলুন
ঘড়ি যদি দীর্ঘদিন ভুল সময় দেখায়, তা ঠিক করে নেওয়াই ভালো। বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সঠিক সময় চলা ঘড়ি সক্রিয়তা ও গতিশীলতার প্রতীক। তাই ভুল সময় দেখানো ঘড়ি রাখা এড়িয়ে চলেন অনেকে।
প্রধান দরজার উপরে ঘড়ি?
বাড়ির প্রধান দরজার একেবারে উপরে ঘড়ি লাগানো বাস্তু মতে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরিবর্তে দরজার পাশের দেওয়াল বা ঘরের এমন জায়গায় ঘড়ি রাখা যেতে পারে, যেখানে সহজেই সময় দেখা যায়।
শোওয়ার ঘরে ঘড়ি রাখার নিয়ম
শোওয়ার ঘরে ঘড়ি থাকলে সেটি এমন জায়গায় রাখা ভালো, যাতে শুয়ে থাকার সময় সরাসরি চোখের সামনে না থাকে। টিকটিক শব্দে যদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে নীরব ঘড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভাঙা কাচ বা নষ্ট ঘড়ি?
ভাঙা কাচ, নষ্ট কাঁটা কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ঘড়ি দীর্ঘদিন ঘরে রেখে দেওয়া বাস্তু মতে অনুচিত বলে মনে করা হয়। তাই ঘড়ির কোনও অংশ নষ্ট হলে তা মেরামত করা অথবা পরিবর্তন করে নেওয়াই ভালো।
ঘড়ির চারপাশ রাখুন পরিষ্কার
ঘড়ির চারপাশে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে না রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ভালো। বিশেষ করে দেওয়ালে টাঙানো ঘড়ির কাচে ধুলো জমে থাকলে নিয়মিত পরিষ্কার করে নেওয়া উচিৎ। এতে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়ে।
কেমন ঘড়ি- বড় না ছোট?
ঘরের আকার ও সাজসজ্জার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘড়ি নির্বাচন করাই ভালো। খুব বড় বা অতিরিক্ত ভারী ঘড়ি ছোট ঘরে যেমন বেমানান লাগতে পারে, তেমনই অত্যন্ত ছোট ঘড়ি বড় দেওয়ালে ভালো নাও লাগতে পারে।
ঘড়ি নিয়ে বাস্তুশাস্ত্রের এই নিয়মগুলি মূলত প্রচলিত বিশ্বাস; এগুলির বৈজ্ঞানিক কোনও প্রমাণ নেই। তবে ঘড়ি সচল রাখা, সঠিক সময়ে রাখা এবং ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা দৈনন্দিন জীবনে নিঃসন্দেহে উপকারী।

No comments:
Post a Comment