কলকাতা: বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। নিম্নচাপ ও মৌসুমী অক্ষরেখার জোড়া প্রভাবে জেলায় জেলায় বৃষ্টি। ভিজবে উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক জেলা। এমনই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বুধবার আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, গতকাল বঙ্গের ওপর যে স্পষ্ট নিম্নচাপ ছিল, তা এখন সরে গিয়ে উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ধীরে ধীরে আগামী ১২ ঘন্টার মধ্যে দুর্বল হয়ে যাবে।
এদিকে উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ রেখা বা ট্রাফ দেশের নিম্ন স্তরে প্রায় ১ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর সঙ্গে মৌসুমী অক্ষরেখাও রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে আজ দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত এটি স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জায়গাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং হুগলি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
২৪ ঘন্টা পরে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত ধীরে ধীরে কমবে। আগামীকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে এবং ৪ তারিখে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা থাকবে আরও বেশি।
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আগামী ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত মেঘলা আকাশ থাকবে এবং কয়েক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামীকাল সকাল পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। গত ২৪ ঘন্টাতে কলকাতায় প্রায় ১২০ মিলিমিটারের ওপরে বৃষ্টি হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টির মধ্যেই পড়ে। আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৫-৬ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সব জায়গাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি থাকবে। উত্তরের উপরের পাঁচটি জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে আগামী ২৪ ঘন্টায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি হতে পারে মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও। বৃহস্পতিবারেও উত্তর দিনাজপুর জেলাতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। এছাড়াও, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের এক-দু’জায়গায় ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
তবে, সমুদ্র এখন স্বাভাবিক রয়েছে, কারণ নিম্নচাপ সরে গেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে তেমন কোনও দমকা হাওয়া বা ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা নেই। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের জন্য কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ ও জলীয় বাষ্পের প্রাচুর্য নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে—মূলত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকা এবং মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই মেঘগুলো তৈরি হয়। এর মধ্যেই বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হয়ে থাকে, যে কারণে মেঘের ভেতর থেকে বজ্রপাতের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম হয়ে থাকে।

No comments:
Post a Comment