কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বীরভূমের একসময়ের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আর সেই অনুব্রতর সামনেই দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে চ্যালা কাঠ হাতে তাণ্ডব একদল যুবকের। বুধবার সিউড়িতে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে নজিরবিহীন ভাঙচুর ও বিক্ষোভের এই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। এই বিষয়ে স্পষ্ট কথা দিলীপ ঘোষের মুখে। মন্ত্রীর বক্তব্য, 'যেমন দিয়েছো, তেমন তো পাপ পেতেই হবে।'
বৃহস্পতিবার প্রাতঃভ্রমণ সেরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, 'রাজনীতি এরকমই হয়। কে কখন উপরে, কে কখন নীচে কেউ জানে না। কেউ যদি ক্ষমতা পেয়ে থাকে, তার ঠিকঠাক ব্যবহার করা উচিৎ।' তিনি বলেন, 'তৃণমূল আমলে আমরা দেখেছি ক্ষমতার অপব্যাবহার করে মানুষকে কীভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তো যেমন দিয়েছো, তেমন তো পাপ পেতে হবে। সেটাই চলছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সব জায়গায় মারপিট প্রতিশোধ চলবে। এটা ঠিক নয়। সভ্য জগতে এগুলো হয় না। মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকে, বের হয়। এগুলো বন্ধ হওয়া দরকার আছে।'
যুবকদের মুখে এদিন জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা যায়। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'জয় শ্রীরাম বিজেপির ব্র্যান্ডেড নয়, ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ জয় শ্রীরাম বলেন, বলতেই পারেন। তারা কি করেছে কেন করেছে, আইনশৃঙ্খলার ব্যাপার। আমার মনে হয় না সেরকম কিছু আঘাত হয়েছে। এটা ঠিক যে, যেটা ওনার পাওনা ছিল, ওরা মিটিয়ে দিয়েছে।'
উল্লেখ্য, ভোটের ফল প্রকাশের পর বুধবার প্রথম সিউড়ির পার্টি অফিসে যান অনুব্রত মণ্ডল। সিউড়ি পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের কাছে রয়েছে তৃণমূলের পার্টি অফিস। মূলত অবস্থা খতিয়ে দেখে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলাই ছিল মূল বিষয়। সেই সময় আচমকা তিন যুবক মোটা গাছের ডাল, লাঠি, চ্যালা কাঠ হাতে পার্টি অফিসের ভিতরে ঢুকে আসেন। অনুব্রতের সামনেই ভাঙচুর করতে থাকেন। এসি থেকে কাচের জানলা, টেবিল, চেয়ারে ভাঙচুর চালায় তাঁরা। অনুব্রত মণ্ডলের সামনে থাকা কাচের টেবিলেও ভাঙচুর চালায় ৩ জন যুবক। অনুব্রতকে মারধর করা না হলেও, তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁর কলার ধরেও টানতে দেখা যায় এক যুবককে। পরে পুলিশ নিরাপত্তায় এলাকা ছাড়েন তিনি। ঘটনার খবর পেয়েই ৩ যুবককে আটক করে পুলিশ। তবে সকাল পর্যন্ত কোনও অভিযোগ না পেয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
কিন্তু কেন হামলা? অভিযুক্ত যুবকরা জানাচ্ছেন, ১৫ বছর তৃণমূল জামনায় তাঁরা অত্যাচারিত। বিভিন্নভাবে শোষণ চালানো হয়েছে। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ। অভিযুক্তরা জানিয়েছেন তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের মুখে 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান শোনা গিয়েছে বলে দাবী করেছেন উপস্থিত অনুব্রত সমর্থকরা।
এদিকে একসময়ের এমন দাপুটে নেতা, যার কিনা বীরভূমের বাঘ তকমা মিলেছে, সেই অনুব্রত মণ্ডলের সামনে এমন ঘটনা ঘিরে রাজ্য রাজনীতি রীতিমতো তোলপাড়। স্থানীয়দের দাবী, এতদিনের রাগের বহিঃপ্রকাশ এদিনের এই ঘটনা।

No comments:
Post a Comment