ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন এক বৃদ্ধ। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদায়। জানা গিয়েছে, বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে গুটখার পিক ফেলতে গিয়ে ঘটে এই বিপত্তি। পিক ফেলতে গিয়ে বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ কেভি হাইটেনশন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে আসেন ৬৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ। আর বিদ্যুতের তীব্র ঝটকায় বাড়ির রেলিংয়েই ঝুলে থাকে তাঁর দেহ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বারবার জানানো সত্ত্বেও বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার সরানোর কোনও ব্যবস্থা করেনি বিদ্যুৎ দফতর। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ বিদিশা জেলার গঞ্জবাসোদার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গায়ত্রী নগরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, ৬৫ বছর বয়সী প্রভুলাল গুপ্ত বাড়ির তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে গুটখার পিক ফেলতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতরভাবে ঝলসে যান প্রভুলাল। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। বিদ্যুতের তীব্রতার কারণে বাড়ির বারান্দার রেলিংয়েই ঝুলে থাকে তাঁর দেহ। দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা ওই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
জানা গিয়েছে, প্রভুলাল গত ১০ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁর আদি বাড়ি ছতরপুরে। দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঞ্জবাসোদা শহর থানার পুলিশ।
বাড়ির মালিক পদমা চিঢ়ার জানান, বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার সরানোর জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। দ্রুত তার সরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ডায়াল ১১২-এর জরুরি পরিষেবার দলও।
অন্যদিকে, স্থানীয় কাউন্সিলর মনীশ বিশ্বকর্মার অভিযোগ, এলাকায় বিদ্যুৎ দফতরের তরফে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয় না। বিদ্যুতের খুঁটি, তার এবং ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের অবস্থাও বেহাল। বেশ কয়েকটি বাড়ির পাশ দিয়েই গিয়েছে ১১ কেভি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার। এই তারগুলি সরানোর জন্য একাধিকবার বিদ্যুৎ দফতরকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবী তাঁর। এমনকি, নির্মীয়মাণ একটি বাড়ির ছাদের উপর দিয়েও অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানে গিয়েছে ১১ কেভি বিদ্যুতের তার, যা বিপদকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment