ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ অক্টোবর ২০২৬: অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছে হাত শিবির। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বলেছেন, সরকারের উচিৎ চীনকে ক্লিন চিট দেওয়া বন্ধ করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তোপ দেগে তিনি বলেন, তাঁর উচিৎ দেশকে সত্যিটা বলা। খাড়গে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তিনটি প্রশ্নও রেখেছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গও তোলেন।
কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করে খাড়গে এক্স-এ লিখেছেন, "চীনকে যথেষ্ট ক্লিন চিট দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেশের সামনে প্রকৃত সত্য প্রকাশ করতে হবে। তাঁকে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।" কংগ্রেস সভাপতি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক জবাবদিহিতা সম্পর্কিত তিনটি প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি বলেন, "অরুণাচল প্রদেশে চীনা সেনাবাহিনীর সঙ্গে চলমান সংঘর্ষের বিষয়ে আইটিবিপি মহাপরিচালকের নিশ্চিতকরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ডোকলাম ও গালওয়ানের পর কি আরেকটি সংঘর্ষ হয়েছে? আগস্টে তাকসিংয়ের কাছে চীনা অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবুও, ওয়াচা-দামাইয়ে কোর কমান্ডার-স্তরের আলোচনার ৪৭ দিন পরেও অচলাবস্থা চলছে। ভারতের টহল দেওয়ার অধিকার কি ক্ষুণ্ণ হয়েছে? কেন দেশকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে?"
অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে খাড়গে প্রশ্ন করেন, গালওয়ানে ভারতের ২০ জন বীর সেনার আত্মত্যাগের পর থেকে (২০২০-২১ অর্থবর্ষের পর), চীন থেকে ভারতের আমদানি ১০২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১৫৫ শতাংশ বেড়ে ১১২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও স্বীকার করেছেন, চীন ভারতের রফতানির পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তা সত্ত্বেও, ভারত সরকার চীনা বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যোগ্য উদ্যোগগুলিকে উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (পিএলআই) দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। তাহলে কি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এখন ‘চীন থেকে আমদানি’তে পরিণত হয়েছে?
কূটনৈতিক জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্য, "প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অন্তত ২৩টি বৈঠক ও পারস্পরিক আলাপচারিতা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের অংশগ্রহণে বিশেষ প্রতিনিধিদের পর্যায়ে ২৫ দফা বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়াও, ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি)-এর ৩৬টি বৈঠক এবং পরপর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) ও ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এত বৈঠক ও কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনার বাস্তব ফল কী? ২০২০ সালের মে মাসের আগে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতের যে টহলদারির অধিকার ছিল, তা কি সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে?"
পোস্টে তিনি লেখেন, "আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দেশের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজন জবাবদিহি, কেবল কূটনৈতিক ছবি তোলা কিংবা আলিঙ্গন-নির্ভর কূটনীতি নয়!" খাড়গের কথায়, 'বিরোধীদের আক্রমণ করার পরিবর্তে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিৎ সংসদ ও দেশবাসীকে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা।"
উল্লেখ্য, আইটিবিপি-র মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর সম্প্রতি বলেছেন যে, ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত চলে আসছে। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষও হয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

No comments:
Post a Comment