লাইফস্টাইল ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: হিমেল হাওয়া, কুয়াশামাখা সকাল আর মিঠে রোদ—সব মিলিয়ে শীতের আমেজ বড়ই মনোরম। কিন্তু ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ত্বকের ওপর পড়ে তার প্রভাব। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ত্বক হারাতে থাকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা। দেখা দেয় শুষ্কতা, রুক্ষভাব, টানটান অনুভূতি এবং ঠোঁট ফাটার মতো সমস্যা। কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে চুলকানি ও খসখসে ভাবও দেখা যায়। তাই শীতের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ত্বকের প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। কয়েকটি সহজ অভ্যাসেই ত্বককে রাখা যায় কোমল, সতেজ ও প্রাণবন্ত। যেমন -
ময়শ্চারাইজারেই থাকুক ভরসা
শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়শ্চারাইজারের বিকল্প নেই। স্নানের পর এবং মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়শ্চারাইজার লাগানো ভালো। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ক্রিমজাতীয় ময়শ্চারাইজার উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা ও ত্বকের উপযোগী প্রসাধনী বেছে নিতে পারেন। আর হ্যাঁ, ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে সেই প্রসাধনীর ব্যবহার বন্ধ করুন।
গরম জলে স্নান নয়
শীতের সকালে গরম জলে স্নান করতে আরাম লাগলেও অতিরিক্ত গরম জল ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই স্নানের জন্য হালকা উষ্ণ জল ব্যবহার করুন। দীর্ঘক্ষণ স্নান না করে অল্প সময়ের মধ্যে স্নান সেরে নেওয়াই ভালো। পাশাপাশি ত্বক পরিষ্কার করার জন্য মৃদু ও সুগন্ধিবিহীন সাবান বা ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন।
ঠোঁটের যত্নেও চাই বাড়তি মনোযোগ
শীতকালে ঠোঁট ফেটে যাওয়া একটি পরিচিত সমস্যা। ঠোঁটের ত্বক তুলনামূলকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় আর্দ্রতার অভাবে দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি বা উপযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে ঠোঁটের শুষ্কতা আরও বাড়তে পারে।
সানস্ক্রিন ব্যবহার ভুলবেন না
অনেকেই মনে করেন, শীতকালে রোদের তেজ কম থাকায় সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। এই ধারণা ঠিক নয়। মেঘলা দিনেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই দিনের বেলায় বাইরে বেরোনোর আগে অন্তত এসপিএফ ৩০-যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগান।
ত্বকের যত্নে চাই পর্যাপ্ত জল ও সুষম খাবার
শীতকালে তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করা জরুরি। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় রাখুন মরশুমি ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার। সুষম খাদ্য ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুমও ত্বকের যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঘরোয়া যত্নে সতর্কতা জরুরি
ত্বকের কোমলতা বজায় রাখতে অনেকেই মধু, দুধের সর কিংবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেন। তবে প্রাকৃতিক উপাদান মানেই তা সবার ত্বকের জন্য নিরাপদ, এমন নয়। নতুন কোনও উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। লেবুর রস, বেকিং সোডা কিংবা শক্তিশালী স্ক্রাব সরাসরি মুখে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। এগুলি ত্বকে জ্বালা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
ত্বকের ধরণ বুঝেই করতে হবে পরিচর্যা
শুধু শুষ্ক ত্বক নয়, শীতকালে তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বকেরও বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। তৈলাক্ত ত্বকেও আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য উপযুক্ত ময়শ্চারাইজার দরকার। অন্যদিকে, সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সুগন্ধিবিহীন ও মৃদু প্রসাধনী বেছে নেওয়া ভালো। ত্বকে অতিরিক্ত লালচে ভাব, চুলকানি, ফাটল বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

No comments:
Post a Comment