ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা চাল তেহরানের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, October 24, 2026

ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা চাল তেহরানের

 


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান যদি কোনও চুক্তিতে রাজি না হয়, তা হলে ওয়াশিংটন ফের একটি সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। এর কয়েক ঘন্টা আগেই এক মার্কিন দূত জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যেই ইরানের ওপর ফের বড় ধরণের হামলা চালানো হতে পারে।


শুক্রবার ফ্লোরিডায় একটি জনসভায় ট্রাম্প বলেন, “আমরা আরও একবার ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারি।” ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত নামটির উল্লেখ করেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরেই পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবী, আমেরিকা ও ইজরায়েল ফের হামলা চালালে পারস্য উপসাগরে সমুদ্রের তলদেশে পাতা ইন্টারনেটের তারগুলিকে নিশানা করতে পারে ইরান।


হামলা থেকে বাঁচতে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনা তৈরি করেছে ইরান। পারস্য উপসাগরে সমুদ্রের তলদেশে পাতা ইন্টারনেটের তার কেটে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি জানিয়েছেন, ইরানের পরিকাঠামোর ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালীর তলদেশে থাকা সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট তার কেটে দেবে ইরান। তাঁর দাবী, সমুদ্রের তলদেশে থাকা যোগাযোগ পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সামরিক ঘাঁটি—কোনও কিছুই নিশানার বাইরে থাকবে না।

জাভানির বক্তব্য, সমুদ্রের তলদেশে পাতা এই ইন্টারনেট তারগুলিতে পৌঁছনোর সম্পূর্ণ সুযোগ রয়েছে ইরানের হাতে। শুধু তা-ই নয়, চাইলে সেগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে বলে দাবীৎকরেছেন তিনি।


ইন্টারনেটের তার কেটে গেলে কী ক্ষতি হবে?

বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট তথ্যপ্রবাহ সমুদ্রের তলদেশে পাতা যোগাযোগের তারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তার ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। কমে যেতে পারে ইন্টারনেটের গতি। পাশাপাশি, আর্থিক লেনদেন, অনলাইন ব্যবসা এবং ক্লাউড পরিষেবাতেও বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই তারগুলির মেরামতির কাজও অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। কারণ, বিমার খরচ বেড়ে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সমুদ্র অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি পেতে দেরি হওয়ার মতো সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে মেরামতির কাজে যুক্ত সংস্থাগুলিকে।


একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে ফের হামলার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে শুক্রবারই তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা খুব দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ করে দেওয়া উচিৎ, নাকি ধীরে ধীরে পরিস্থিতিকে দুর্বল হতে দেওয়া উচিৎ? ট্রাম্পের কথায়, যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা আমেরিকার রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এখনই যুদ্ধ শেষ করা হবে, নাকি ধীরে ধীরে তার অবসান ঘটতে দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবী করেছেন, আমেরিকা যা চাইছে, তা-ই পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমেরিকার তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। ফলে একদিকে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত—ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে নতুন করে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad