ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: দীপাবলির আগে দিল্লীর ব্যবসায়ীরা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে বড়সড় দাবী জানিয়েছেন। ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই) রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়ে আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের প্রস্তাবিত সভা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, রামলীলা ময়দানের আশপাশে ২০টি বড় পাইকারি ও খুচরো বাজার রয়েছে। এমতাবস্থায় সভার কারণে বাজারগুলিতে যাতায়াত ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ ব্যাহত হতে পারে। ফলে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল চিঠিতে রাহুল গান্ধীর কাছে সভা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব, ভাইফোঁটার পর সভার আয়োজন করা হোক। চলতি বছর ১০ নভেম্বর ভাইফোঁটা। সেই কারণে ওই তারিখ পর্যন্ত সভা স্থগিত রাখার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিজেশ গোয়েলের দাবী, বর্তমানে দীপাবলির মরসুমে ব্যবসার ব্যস্ততম সময় চলছে। এই সময় সভা হলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, দিল্লীর রামলীলা ময়দানে আগামী ১ নভেম্বর সভার ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। সেই সভাকে ঘিরেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিটিআই। সংগঠনের চেয়ারম্যান রাহুল গান্ধীকে লেখা চিঠিতে আবেদন জানিয়েছেন, “আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ, এই সভা ১০ নভেম্বর, অর্থাৎ ভাইফোঁটা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হোক।” সিটিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট এবং মধ্য দিল্লীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক সভা ও মিছিলের কারণে অক্টোবর মাসে দিল্লীর ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে দিল্লীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি ও খুচরো বাজার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদনি চক, সদর বাজার, চাওড়ি বাজার, ভাগীরথ প্যালেস, খারি বাওলি, কাশ্মীরি গেট, নয়া বাজার, মোরি গেট, কিনারি বাজার, দারিবা, দরিয়াগঞ্জ, আজমেরি গেট, জামা মসজিদ, ঝান্ডেওয়ালান, করোলবাগ, নবী করিম, আজাদ মার্কেট এবং লাজপত রায় মার্কেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই বাজারগুলি থেকে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ করা হয়। তাই সভার কারণে যান চলাচলের পথ পরিবর্তন, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ব্যারিকেড বসানোর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে বাজারগুলির স্বাভাবিক কাজকর্ম সম্পূর্ণ ব্যাহত হতে পারে।
সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান আরও জানিয়েছেন, পুরনো দিল্লী রেলস্টেশন এবং নয়াদিল্লী রেলস্টেশনও রামলীলা ময়দানের কাছাকাছি অবস্থিত। প্রতিদিন বহু ব্যবসায়ী ও ক্রেতা এই দুই স্টেশনে নেমে সরাসরি বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। সভার কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ব্রিজেশ গোয়েল জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে তাঁরা সম্পূর্ণ সম্মান করেন। তবে দীপাবলির মরসুমে ব্যবসার গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে তাঁর আবেদন, ধনতেরস, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটা পর্যন্ত দিল্লীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে বড় মাপের সভা ও মিছিলের আয়োজন এড়িয়ে চলা হোক।

No comments:
Post a Comment