প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অধিকারের পক্ষে সুর চড়ালেন সোনাম ওয়াংচুক, কী বললেন? - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, October 24, 2026

প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অধিকারের পক্ষে সুর চড়ালেন সোনাম ওয়াংচুক, কী বললেন?

 


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর ২০২৬: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ককরোচদের আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। এমনকি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবীতে এবারের আন্দোলনে সরাসরি অংশ না নিলেও সংহতি জানিয়েছিলেন। এবার প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অধিকারের পক্ষে ফের সুর চড়ালেন লাদাখের সেই সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর কথায়, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হল সরকারকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করার অন্যতম সেরা উপায়। শনিবার এই মন্তব্য করেছেন সোনম ওয়াংচুক। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে অশান্তির ঘটনাগুলির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।


আইপিএফ মহোৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াংচুক বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অনুমতি দেয়। এমনকি সংসদ ভবনের ঠিক সামনেও বিক্ষোভ হয়। তাঁর দাবী, প্রতিটি দেশেই সংসদ ভবনের সামনের এলাকা প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তিনি বলেন, ব্রিটেন, নরওয়ে ও সুইডেনের মতো দেশগুলিতে সংসদ ভবনের ঠিক সামনে বিক্ষোভ করার অনুমতি রয়েছে।


ওয়াংচুক বলেন, “ভারতে সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়। যখন শুধুমাত্র যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ হত, তখনও সেই জায়গাটি অনেক দূরে ছিল।” মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবীতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াংচুকের মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। এই প্রসঙ্গে ওয়াংচুক বলেন, “দেখুন, যখন প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয় না, তখন কী ঘটে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তার উদাহরণ।” তিনি বলেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করার জন্য কোনও অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন হওয়া উচিৎ নয়। তাঁর মতে, অনুমতির উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ শহরে কী ঘটছে, তা জানা—যেমন কোনও উৎসব বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।


কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে ওয়াংচুক বলেন, আধাসামরিক বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। তিনি বলেন, “কিন্তু তারা নিজেদেরই মানুষ, আমার মতো মানুষ এবং আমাদের যুবদের পিছনে পড়েছে।” চলতি মাসের গোড়ায় ককরোচ জনতা পার্টি বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পর আধাসামরিক বাহিনীর ইউনিট মোতায়েন করায় কেন্দ্রের সমালোচনা হয়েছিল। ওয়াংচুকের এই মন্তব্য লাদাখ প্রশাসন হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস, লাদাখ (এইচআইএএল)-কে জমি বরাদ্দ বাতিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করার পরও সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে দাবী করা হয়, আইন লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা এবং লিজ় চুক্তির শর্ত পূরণ না করার ফলে জমির বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছে বলেও জানানো হয়।


ওয়াংচুক বলেন, দেশের নিরাপত্তাকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ। তিনি বলেন, “অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রায়ই আধাসামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে শুরু করেছি। কিন্তু আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকা উচিৎ। আধাসামরিক বাহিনীরই সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলানো উচিৎ।”


তিনি আরও দাবী করেন, “লাদাখে আমি ‘সলামি স্লাইসিং’ দেখেছি, যেখানে চীন ধীরে ধীরে ভিতরে ঢুকে পড়ছে। সীমান্ত থেকে নজর সরে গেলে এমনটা ঘটে। বিশেষ করে শীতকালে, যখন আধাসামরিক বাহিনীকে অন্য কাজে মোতায়েন করা হয়। তারা যখন আবার সীমান্তে ফিরে আসে, ততক্ষণে চীন অনেকটা ভিতরে ঢুকে পড়েছে। তখন তাদের পিছনে ঠেলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad