বিনোদন ডেস্ক, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে চলল গুলি। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় মোটরসাইকেলে চড়ে এসে অভিনেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় তিন দুষ্কৃতী। অভিনেতা অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পেলেও আহত হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক ও অটোরিক্সার চালক। রবিবার রাতে ঘটেছে এই ঘটনা। আর এই গুলি কাণ্ডে ৩ জনকে গ্ৰেফতার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিনজনকে কোটা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা একটি রেলওয়ে কলোনিতে লুকিয়ে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের পাকড়াও করে। মুম্বাই পুলিশ তাদের শেষ অবস্থান আন্ধেরি রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত শনাক্ত করে, যেখান থেকে তিন অভিযুক্ত মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী একটি ট্রেনে চড়ে পালিয়ে যায়। অ্যান্টি গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (এজিটিএফ) এবং রাজস্থান পুলিশ একটি যৌথ অভিযান চালিয়ে মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী একটি ট্রেন থামিয়ে এই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। কোটা সিটি পুলিশও নিশ্চিত করেছে যে তিন হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরের মুম্বাই নিয়ে আসা হচ্ছে।
তদন্ত চলাকালে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে, যা থেকে অভিযুক্তদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় এবং জানা যায় যে তারা ট্রেনে করে সুরাটের দিকে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর পুলিশকে অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করে। এই তথ্য তদন্তকারীদের তিন অভিযুক্তকে ধরতে সাহায্য করে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সোমবারের বক্তব্যের পরেই এই গ্ৰেফতার। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে, মুম্বাই পুলিশ এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছে এবং এই হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
নাগপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফড়নবীশ বলেন যে, অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রের বাইরে, সম্ভবত বিদেশ থেকে তাদের কার্যকলাপ চালাচ্ছিল। তিনি বলেন, তাদের ধরতে পুলিশ অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সহায়তা চাইবে।
টাইগারকে গুলি করা তিন অভিযুক্তের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়েছে। একজন শুটার হলেন ফুল সিং, যিনি হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা। দ্বিতীয় শুটার রেহানও সোনিপতের আর হৃত্বিক কুমার ওরফে রোশন বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। বলা হচ্ছে, এই তিনজনই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত। যদিও পুলিশ এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে।
এএনআই-এর তথ্যমতে, তদন্তকারী সংস্থাগুলো সন্দেহ করছে যে এই হামলাটি প্রশিক্ষিত শুটারদের দিয়ে চালানো হয়েছে, যারা হামলার আগে অভিনেতার গতিবিধির ওপর রেকি করেছিল। সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারীরা টাইগার শ্রফের সাপ্তাহিক রুটিন পর্যবেক্ষণ করে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা জানত যে অভিনেতা প্রতি রবিবার জুহু ফুটবল গ্রাউন্ডে যান। অভিযুক্তরা টাইগারের গতিবিধির ওপর নজর রেখেছিল এবং তিনি যখন গাড়িতে করে মাঠ ছাড়ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পর সালমান খানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সেখান দিয়ে যাওয়া প্রতিটি যানবাহন পরীক্ষা করছে। টাইগার শ্রফের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment