'প্যারিস শীঘ্রই মুসলিম শহরে পরিণত হবে', ফ্রান্সের সহিংসতা নিয়ে বিস্ফোরক ট্রাম্প! ম্যাক্রোঁকে পরামর্শ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, October 20, 2026

'প্যারিস শীঘ্রই মুসলিম শহরে পরিণত হবে', ফ্রান্সের সহিংসতা নিয়ে বিস্ফোরক ট্রাম্প! ম্যাক্রোঁকে পরামর্শ


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২০ অক্টোবর ২০২৬: ফ্রান্সে সহিংসতা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবী করেছেন যে, প্যারিস শীঘ্রই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হবে। তিনি ফ্রান্সে চলমান সহিংসতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন এবং বলেছেন যে, ম্যাক্রোঁর অনেক আগেই দেশের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ ছিল।


ট্রাম্প বলেন, "প্যারিস শীঘ্রই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে চলেছে... এমানুয়েলের অনেক আগেই তাঁর সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ ছিল। আমি তাঁকে তা করতে বলেছিলাম।"


তিনি ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, সেখানে যা ঘটছে তা অভিবাসনের সাথে সম্পর্কিত, স্কুল বা অন্য কিছুর সাথে নয়। ট্রাম্পের মতে, তিনি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ফ্রান্সের সীমান্ত বন্ধ করে দিতে বলেছিলেন।


সপ্তাহান্তে সহিংসতার পর ফ্রান্সে নিরাপত্তা জোরদার করার সময়েই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে। দেশের বিভিন্ন অংশে পৌরসভা কার্যালয়, সরকারি ভবন এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশানা করা হয়েছিল।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের মতে, এই সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ২,৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনুমান, প্রায় ৩,০০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে।


সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায়, প্যারিস পুলিশ রাজধানীর দুটি এলাকায় রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এই এলাকাগুলোর মধ্যে ছিল প্লেস দে লা রিপাবলিক এবং লেস হ্যালস-এর কেনাকাটার এলাকা।


এছাড়াও, রাত ৮টা থেকে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ফ্রান্সের আরও বেশ কয়েকটি শহরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু শহরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।


ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু পুলিশের এই পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, সহিংসতা ও ব্যাপক সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও কেউ নিহত হননি, যা অলৌকিকের চেয়ে কম কিছু নয়।

তবে, এই সহিংসতা ফ্রান্সে রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ রবিবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা গ্রহণ করেননি। ম্যাক্রোঁ বলেন, সহিংসতার মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।



স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজকে সহিংসতা মোকাবেলার প্রস্তুতি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি অবিলম্বে নতুন পুলিশি পদ্ধতি বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান। নুনেজ স্বীকার করেছেন যে, কিছু বড় শহরে আধিকারিকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সহিংসতা মোকাবেলার ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটিগুলো প্রকাশ করেছে।


এদিকে, ডানপন্থী ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টির সভাপতি জর্ডান বারদেলা ফরাসি নাগরিকদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার ও ম্যাক্রোঁকে অভিযুক্ত করেছেন এবং ভোটারদের তাঁদের নির্বাচনী ক্ষমতা ব্যবহার করে নেতৃত্বকে জবাবদিহি করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad