ন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ নভেম্বর ২০২৬: উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে বিজেপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কার্যনির্বাহী বৈঠকের পর দলের নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার নির্বাচনী ময়দানে সংগঠনকে নামাতে চলেছে পদ্ম শিবির। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যের ১৮টি কমিশনারিতে জনসভা করবেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিভিন্ন অঞ্চলে সভা ও বুথ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী আবহ তৈরি করবেন।
সম্প্রতি বিজেপির সদর দফতরে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা উত্তরপ্রদেশের প্রভারি বিনোদ তাওড়ের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী, সংগঠন সাধারণ সম্পাদক ধর্মপাল সিং, আঞ্চলিক সভাপতি, প্রভারি এবং জেলা সভাপতিরা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সংগঠনের পদাধিকারীদের নির্বাচনী প্রচারে নামানো হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতি নির্বাচনের মতো এবারও কর্মীদের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজেপি। প্রতি ৫০টি পরিবারের জন্য একজন করে কর্মীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং দলের নীতির কথা তুলে ধরবেন। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি, জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে দলের সঙ্গে যুক্ত করার কাজও করবেন। জেলা স্তরে সমন্বয়কারী দল গঠন করা হবে। বিধানসভা এলাকায় প্রবাসী প্রভারিদের নিয়োগের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিচালন কমিটি গঠনের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী কর্মীদের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সমস্ত ১৯১৮টি মণ্ডলে সাংগঠনিক সফরের জন্য শক্তিশালী দল তৈরি করা হবে। কর্মীরা নিজেদের এলাকায় রাত্রিবাস করবেন। পাশাপাশি, গ্রামসভা স্তরে চৌপাল এবং জনসংযোগমূলক কর্মসূচির আয়োজন করবেন।
ভোটার তালিকার যাচাই এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-কেও দলের অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। নতুন ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যুবকদের ভোটার কার্ড তৈরি করানোর বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
সংগঠন সাধারণ সম্পাদক ধর্মপাল সিং জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে রাজ্যের ছয়টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা দূর করো’ অভিযানের আওতায় পদযাত্রা শুরু হবে। প্রতিটি পদযাত্রায় কমপক্ষে ২৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও দলের সক্রিয়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শুধুমাত্র নিজেদের ছবি পোস্ট না করে দলের বিভিন্ন ইস্যু এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

No comments:
Post a Comment