নবান্ন অভিযান কি বিজেপির সংগঠনে আচ্ছে দিন আনবে ? - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 15 September 2022

নবান্ন অভিযান কি বিজেপির সংগঠনে আচ্ছে দিন আনবে ?


"নবান্ন চলো" সমাবেশকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আচ্ছে দিন আসছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। প্রসঙ্গত, বাংলায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং সাধারণ অপশাসনের প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি ১৩ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযান করেছিল। প্রতিবাদ সমাবেশে রাজ্য পুলিশের অস্বাভাবিক সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয় বিজেপি কর্মীদের। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশি ব্যাপক প্রতিরোধ ও লাঠিচার্জ সত্ত্বেও, বিজেপি মঙ্গলবারের ঘটনাগুলিকে আচ্ছে দিনের ইঙ্গিত হিসাবে দেখছে।


 রাজ্য পুলিশ বিজেপি কর্মীদের কলকাতায় জড়ো হওয়ার অনুমতি দেয়নি । এমনকি কলকাতায় আসার জন্য তাদের রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলি ছেড়ে যায় নি । এতে বোঝা যায় দলীয় কর্মীরা শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। পূর্বে, এই কর্মীরাই মনে করতেন ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিজেদের রক্ষা করার জন্য তাদের পাশে নেতৃত্বকে পায়নি। 


২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক বিজয়ের পরে টিএমসি ক্যাডাররা রাজ্যব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছিল বলে দাবি করে বিজেপি। এমনকি কিছু হামলার ফুটেজ সংবাদ মাধ্যমে দেখা গিয়েছিল । বিজেপি সামাজিক মাধ্যমে বহু ভিডিও ক্লিপ পোষ্ট করে। যেখানে দেখা যায়, বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং তাদের সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি বেশ কয়েকজন সমর্থককেও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।


 মঙ্গলবার দেখা বিজেপির জমায়েত দাবি করে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা তৃণমূলের ভয় কাটিয়ে উঠেছে।পুলিশ ও তৃণমূলের একাধিক সূত্রের দাবী, বাংলার জনসাধারণের মধ্যে বিশেষ করে গ্রামীণ এবং আধা-শহর এলাকায় বিজেপির প্রতি সমর্থন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরের নির্বাচনের পরে যারা বিজেপি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন বা দল ছেড়েছিলেন তারা আবার ফিরতে শুরু করেছেন।


 এমকি আগে যারা তৃণমূলের পক্ষে ছিলেন তাদের মধ্যেও বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের ‘কাটমানি’, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির ঘটনা  বাঙালিদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। এমনকি নিম্নস্তরের তৃণমূলের কর্মীরা, যারা বিলাসবহুল জীবনধারা উপভোগ করেন, তাদের  সম্পদ বৃদ্ধি মমাজের সচেতন নাগরিকের কাছে অপছন্দের তা তারা প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন।


 সম্প্রতি, তৃণমূলের কয়েকজন নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে ইডি ও সিবিআই। জমি ও সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণ করে নগদ, মূল্যবান জিনিসপত্র এবং নথিপত্রের ঢিবি উদ্ধার করা হয়েছে, যা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিতৃষ্ণাকে আরও তীব্র করেছে।


 গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি, দরিদ্রদের জন্য আবাসন এবং গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলির জন্য তহবিলের অপব্যবহার কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পগুলির জন্য তহবিল বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছে।পাশাপাশি, অন্যান্য রাজ্যে কর্মরত লক্ষাধিক বাঙ্গালীরা সেখানকার স্বচ্ছলতা, স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপন এবং স্বাধীনতা উপভোগ করার গল্প গ্রামীণ সমাজে করায় মানুষ বুঝতে পারছে বাংলার বর্তমান অবস্থা । এই ধরনের বিষয়গুলি বাংলার জনগণের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে।


 যদিও এটাও ঠিক এই ক্ষোভের কোনওটিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের পতন হওয়া কঠিন। তবে রাজনীতি করার জন্য  সময়গুলি বিজেপির জন্যও মসৃণ হবে না। যাইহোক, বিজেপি যদি মঙ্গলবারের সমাবেশের গতিকে পুঁজি করতে পারে, তবে বাংলায় বিজেপির আচ্ছে দিন আসতে পারে সাংগঠনিক ভাবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad