মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে: অমর্ত্য সেন - press card news

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 14 January 2023

মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে: অমর্ত্য সেন


'চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন বিজেপির পক্ষে একতরফা যাবে, এটা ভাবলে ভুল হবে, এমনই মন্তব্য করলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। পাশাপাশি তাঁর মত, আগামীতে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দলের ভূমিকা সাধারণ নির্বাচনে স্পষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বরিষ্ঠ এই অর্থনীতিবিদ এও বলেন যে, যদিও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির বিরুদ্ধে জনগণের হতাশাকে সমাবেশ করতে সক্ষম হবেন কিনা তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। 


তিনি বলেন, “আমি মনে করি বেশ কিছু আঞ্চলিক দল স্পষ্টতই গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি ডিএমএ একটি গুরুত্বপূর্ণ দল। টিএমসি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজবাদী পার্টির কিছু অবস্থান আছে, তবে এটি বাড়ানো যেতে পারে কিনা, আমি এটা জানি না।" 


পিটিআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, "বিজেপি নিজেকে এমন ভাবে তৈরি করেছে যে, এমন অন্য কোনও দল নেই, যা এর জায়গা নিতে পারে, আমি মনে করি এটি ভাবা ভুল হবে।"  


উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি এবং জনতা দল (ইউনাইটেড) সহ বেশ কয়েকটি দলের নেতারা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য কংগ্রেস সহ একটি নতুন জোটের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত করবে।' তিনি বলেন, “বিজেপি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। এটি ভারতকে শুধুমাত্র হিন্দু ভারত এবং হিন্দিভাষী ভারত হিসাবে এমনভাবে সংকুচিত করেছে যে, আজ ভারতে বিজেপির বিকল্প না থাকলে এটি দুঃখজনক হবে।" 


অর্থনীতিবিদ বলেন, “বিজেপিকে মজবুত ও শক্তিশালী দেখা যায়, তবে তারও দুর্বলতা রয়েছে। তাই, আমি মনে করি অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যিই চেষ্টা করে, তাহলে তারা যুক্তিতর্কে প্রবেশ করতে পারবে।"


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন কিনা জানতে চাইলে অমর্ত্য সেন বলেন, তাঁর মধ্যে সক্ষমতা আছে। তিনি বলেন, “এমনটা নয় যে, তাঁর কাছে এটা করার সক্ষমতা নেই। তাঁর কাছে স্পষ্টভাবে ক্ষমতা আছে। অপরদিকে, এটা এখনও স্থাপন হয়নি যে, মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে জনগণের হতাশার শক্তিগুলিকে ঐক্যবদ্ধভাবে টেনে আনতে পারবেন, যাতে এটা সম্ভব করা যায়। তাঁর কাছে ভারতে দলাদলি সমাপ্ত করার নেতৃত্ব রয়েছে।"  


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, কে চন্দ্রশেখর রাও-এর তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (এএপি)- এর নেতৃত্বে আঞ্চলিক দলগুলি ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য ফেডারেল ফ্রন্ট (এফএফ) গঠন করে। সেই বছরই জানুয়ারিতে, তৃণমূল সুপ্রিমো দ্বারা আয়োজিত একটি মহাসভায় কলকাতায় সমবেত নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয়। 


এতে জেডি(এস) নেতা এবং কর্ণাটকের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া, অরবিন্দ কেজরিওয়াল (এএপি), প্রাক্তন ইউপি মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব (এসপি), তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিন (ডিএমকে), মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ার,  জম্মু-কাশ্মীরের ফারুক আবদুল্লাহ ও ওমর আবদুল্লাহ এবং অরুণাচল প্রদেশের গেগং আপ্যাং প্রমুখরা সামিল হন। 


২০২৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ী হওয়ার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন অমর্ত্য সেন। এ সম্পর্কে তাঁর মান্যতা, এটি দুর্বল হয়ে গেছে।  তবে, তাঁর সংযোজন, এটিই একমাত্র দল যা সর্বভারতীয় দৃষ্টি প্রদান করে। তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে কংগ্রেস খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং আমি জানি না কংগ্রেসকে কতটা বিশ্বাস করা যায়। অন্যদিকে, কংগ্রেস অবশ্যই একটি সর্বভারতীয় দৃষ্টি প্রদান করে, যা অন্য কোনও দল নিতে পারে না। আবার ভেতরেও বিভেদ আছে।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad