ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ আগস্ট ২০২৫: স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার ছাত্রী। রাজস্থানের বুন্দি জেলায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয় এবং পরে জয়পুরে নিয়ে গিয়ে চলন্ত বাসেই তাঁকে বন্দি বানিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে একজন নির্মাণ ঠিকাদার এবং একজন বেসরকারি বাস চালক ও কন্ডাক্টর।
ঘটনাটি ঘটে ১১ আগস্ট। ওই কিশোরী স্কুল থেকে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। কিন্তু এরপরেও তাঁকে খুঁজেও না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর প্রশাসন পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অনেক চেষ্টার পর, কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়, কিন্তু তাঁর কথা শুনে সকলেই চমকে ওঠেন। জানা যায় যে, কিছু লোক মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। প্রথমে বুন্দির এক নির্মাণ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ছাত্রীর বাবা। ২১শে আগস্ট পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
এর পাশাপাশি, নাবালিকাটি একজন বাস চালক এবং কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিল। বলা হয়, তাঁকে বুন্দি থেকে জয়পুরের সিন্ধি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে তাকে বাসে বন্দি বানিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছিল। পুলিশ জয়পুর থেকে বাস চালক এবং কন্ডাক্টরকেও গ্রেফতার করেছে।
ছাত্রীর কথানুযায়ী, স্থানীয় নির্মাণ কাজের সাথে যুক্ত একজন ঠিকাদার তাকে প্রথমে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে। পরে তাকে একটি বাসে করে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ড্রাইভার এবং কন্ডাক্টর মিলে তাকে বাসের ভেতরে বন্দি করে যৌন নির্যাতন করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর, পুলিশ প্রথমে ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে। তারপর জয়পুরে অভিযান চালিয়ে বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে পকসো আইন এবং গণধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জয়পুর পুলিশ এবং বুন্দি পুলিশের যৌথ পদক্ষেপেই অভিযুক্তদের দ্রুত ধরা সম্ভব হয়।
এদিকে মেয়ের সাথে হওয়া এমন নৃশংসতার পর, তার পরিবার সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। তাদের এখন একটাই আশা - ন্যায়বিচার। মেয়েটির মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে, বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তাঁর কাউন্সেলিং-চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment