কলকাতা, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৬:০১ : কলকাতায় আশা কর্মীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বুধবার আশা কর্মীরা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে জমায়েত হন এবং স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচির ডাক দেন। অভিযোগ, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে গিয়ে তাঁদের বারবার পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এরপর আশা কর্মীরা স্টেশনের ভেতর প্ল্যাটফর্মে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে অনেককেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবর, বিভিন্ন জায়গায় আশা কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়েছে। এর মধ্যেই অফিস টাইমে নিত্যযাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১৩ প্রায় সম্পূর্ণ জ্যাম হয়ে যায়।
বুধবার আশা কর্মীদের রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম-এর কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল। সেই ডেপুটেশনে যোগ দিতে আশা কর্মীদের একাংশ সকালে পুরুলিয়া–বাঁকুড়া রুটের ট্রেন এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকে একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেনে চেপে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু কলকাতাগামী আশা কর্মীদের আটকাতে সকাল থেকেই বিভিন্ন স্টেশনে বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই মহিলা পুলিশ আশা কর্মীদের ঘিরে ফেলে। অভিযোগ, বহু আশা কর্মীকে জোর করে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়া নিয়ে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়। কোথাও কোথাও পুলিশ এড়াতে আশা কর্মীরা পোশাক বদলে কলকাতাগামী ট্রেনে ওঠেন বলেও অভিযোগ।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, বাঁকুড়া থেকে কলকাতাগামী ট্রেনে তাঁদের উঠতে দেওয়া হয়নি, এমনকি ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাতড়ার সিমলাপাল রোড এলাকা থেকে কলকাতাগামী কোনও বাসও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ, বাস মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। খাতড়া–বাঁকুড়া ও খাতড়া–সিমলাপাল রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একদল আশা কর্মীর অভিযোগ, দুর্গাপুর স্টেশন-এর এন্ট্রি গেটে তাঁদের আটকে দেওয়া হয় এবং প্ল্যাটফর্মে যেতে বাধা দেওয়া হয়। পরে আশা কর্মীদের একটি দল প্রায় জোর করেই স্টেশনে ঢুকে হাওড়া-গামী ট্রেনে ওঠেন। বেলদা স্টেশনেও একই অভিযোগ উঠেছে।
পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন-এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সেক্রেটারি পাপিয়া দাসের বিরুদ্ধে খাকুর্দায় বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
রাজ্যে কর্মরত আশা কর্মীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দাবীতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবীর মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা বৃদ্ধি। বুধবার তাঁরা স্বাস্থ্য সচিবের কাছে ১৫,০০০ টাকা বেসিক বেতন, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ডেপুটেশনসহ একাধিক দাবির বিষয় তুলে ধরার কথা ছিল। আন্দোলনরত আশা কর্মীরা গত ২৩ নভেম্বর থেকে লাগাতার ধর্মঘটে রয়েছেন।

No comments:
Post a Comment