ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন শুল্কের কারণে ভারতীয় টেক্সটাইল শিল্পের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারী, ২০২৬) তিনি বলেন, তাঁর (প্রধানমন্ত্রী মোদী) দুর্বলতার প্রভাব অর্থব্যবস্থার ওপর আর পড়তে দেওয়া উচিৎ নয়। তিনি এও বলেন যে, আমেরিকার সাথে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি হওয়া উচিৎ যাতে ভারতীয় ব্যবসা এবং শ্রমিকদের অগ্রাধিকার মেলে।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী সম্প্রতি গুরুগ্রামের কাছে মানেসরে একটি টেক্সটাইল কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং এর ভিডিও শুক্রবার তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছেন। রাহুল বলেন, "মোদীজি, আপনার জবাবদিহি করা উচিৎ; দয়া করে এই বিষয়টিতে মনোযোগ দিন।"
তিনি বলেন, "ভারতের টেক্সটাইল শিল্প আমাদের অর্থনীতিতে রোজগার দেওয়া দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষেত্র। আমাদের কাপড় বিশ্বব্যাপী পছন্দ করা হয় এবং আমাদের দর্জিদের কারুশিল্পের সত্যিই তুলনা হয় না।" কংগ্রেস নেতা বলেন, মার্কিন শুল্কের কারণে টেক্সটাইল শিল্পকে অনেক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা দাবী করেন, "আমেরিকা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ইউরোপে দাম কমছে, বাংলাদেশ ও চীনের থেকে তীব্র প্রতিযোগিতা, আমাদের টেক্সটাইল শিল্প এবং টেক্সটাইল রপ্তানিকারকরা চারদিক থেকে পিষছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাকরির ওপর। কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ক্রয় হ্রাস পাচ্ছে এবং পুরো ক্ষেত্রে অস্থিরতা রয়েছে।"
কংগ্রেস নেতা বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী কোনও ত্রাণ দেননি বা শুল্ক নিয়েও কথা বলেননি, যখন ৪.৫ কোটির বেশি চাকরি এবং লক্ষ লক্ষ ব্যবসা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। চাকরির ক্ষতি, কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ক্রমহ্রাসমান অর্ডার আমাদের মরণশীল অর্থনীতির বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।" তাঁর মতে, এই খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের কেবল এমন একটি সরকারের প্রয়োজন যা তাদের প্রকৃত সহায়তা প্রদান করে।
রাহুল গান্ধী বলেন, "এটা খুবই জরুরি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারত এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি করুক, যা ভারতীয় শিল্প এবং ভারতীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর দুর্বলতার প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে আর পড়তে দেওয়া উচিৎ নয়।"
গত বছর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতীয় অর্থনীতিকে মৃত অর্থনীতি বলেছিলেন, যার সমর্থন করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছিলেন যে, ভারত মৃত অর্থনীতি এবং এর জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী দায়ী। তিনি বলেছিলেন, "দেশের আর্থিক স্থিতি সবাই দেখছে শুধু প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দেখতে পাচ্ছেন না। অর্থনীতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। আমি খুশি যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সত্যি বলেছেন।"



No comments:
Post a Comment