ন্যাশনাল ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: 'আমার মৃত্যুর পর স্ত্রীর দেখাশোনা কে করবে', এই ভাবনা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল ইসরোর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মীকে। আর এ থেকেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন তিনি; স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ব্যাঙ্গালুরুতে। অভিযোগ, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে তিনি তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ভয়ে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দেন। মৃতার নাম সন্ধ্যা শ্রী, বয়স ৬৩ বছর।
এই ঘটনার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তর নাম নাগেশ্বর রাও (ষাটোর্ধ্ব)। তিনি টিম লিডার পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন। নাগেশ্বর কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং এর জন্য চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন। বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে, যেখানে বয়স্কদের বসবাস। বহু বছরের মধ্যে এখানে এটিই প্রথম ঘটনা।
প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, বোম্মেনাহল্লির দ্য ভার্চুওসোতে এদিন সকাল ১০.১৫ টার দিকে রান্নাঘরে দুপুরের খাবার তৈরি করছিলেন সন্ধ্যা শ্রী। সেই সময় নাগেশ্বর তাঁর গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে তাঁকে খুন করেন। খুনের অভিযোগে নাগেশ্বরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের এই দম্পতি তিন বছর আগে এখানে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। তাদের একমাত্র মেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পুলিশের কাছ থেকে ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের মেয়ে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পুলিশ জানায়, স্ত্রীয়ের মৃত্যুর পর নাগেশ্বর ২০ মিনিট ধরে তাঁর মৃতদেহের কাছে বসে ছিলেন। এরপর তিনি একজন প্রতিবেশীকে ফোন করে জানান তিনি তাঁর স্ত্রীকে মেরে ফেলেছেন এবং তৎক্ষণাৎ তাঁকে বাড়িতে আসতে বলেন। প্রতিবেশী ভাবেন তিনি হয়তো মজা করছেন। কিন্তু নাগেশ্বর বারবার একই কথা , প্রতিবেশী ছুটে আসেন। তিনি এসে সন্ধ্যা শ্রীকে মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আবাসনেরই একজন চিকিৎসককে ডাকেন। এই আবাসনে যেহেতু অনেক বয়স্ক নাগরিকেরা থাকেন, তাই একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং একজন ডাক্তার সর্বক্ষণ মোতায়েন থাকে। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, "চিকিৎসক সন্ধ্যা শ্রীকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ওই চিকিৎসকই পুলিশকে ফোন করেন।"
পুলিশ যখন ফ্ল্যাটে আসে, নাগেশ্বর তখন সোফায় বসে ছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি স্বীকার করে নেন। তাঁর কথায়, "হ্যাঁ, আমি তাকে মেরেছি। আমি হয়তো ৩-৪ বছরের বেশি বাঁচব না। আমার মৃত্যুর পর কে তাঁকে দেখবে? বেঙ্গালুরুতে আমাদের কোনও নিকটাত্মীয় নেই।" এরপর, যখন একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তা তাঁকে এমন কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন নাগেশ্বর শুধুমাত্র চোখের পলক ফেলে জবাব দেন।
এই ঘটনায় পুলিশ-সহ বয়স্ক রোগীদের যত্নশীলদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। একজন পুলিশ আধিকারিক বলেন, "এই চমকে দেওয়ার মতো ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বেঙ্গালুরুতে বয়স্ক নাগরিকদের জন্য কমিউনিটি-লিভিং আবাসন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।"

No comments:
Post a Comment