খুনের পর প্রেমিকার মরদেহে যৌ-ন-নির্যাতন, আত্মা ডাকার চেষ্টা! পাগল-প্রেমীর ভয়ঙ্কর কীর্তি - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, February 18, 2026

খুনের পর প্রেমিকার মরদেহে যৌ-ন-নির্যাতন, আত্মা ডাকার চেষ্টা! পাগল-প্রেমীর ভয়ঙ্কর কীর্তি


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: প্রেমিকাকে নৃশংস খুন। এরপর তাঁর মরদেহকে যৌন নির্যাতন। ভয়ঙ্কর কীর্তি যুবকের। ঘটনা মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের। ২৪ বছর বয়সী এমবিএ ছাত্রী খুনের তদন্তে উঠে এসেছে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য। হাড়হিম এই ঘটনায় শিউড়ে উঠেছে গোটা দেশ। পুলিশের মতে, অভিযুক্ত প্রথমে ওই তরুণীকে গলা টিপে করে খুন করে, এরপর তাঁর মৃতদেহকে ধর্ষণ করে। এখানেই শেষ নয়, মৃতদেহের কাছে বসে মদ্যপান করেন প্রেমিক মহাশয় এবং মৃত্যুর পরও তরুণীর পেটে ছুরিকাঘাত করে। 


প্রেমিক বাবাজির পরের কীর্তি আরও চাঞ্চল্যকর; মৃত প্রেমিকার আত্মার সাথে কথা বলার উপায় ইন্টারনেট ও ইউটিউবে অনুসন্ধান করে। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনাটি চরম নিষ্ঠুরতা এবং সম্ভাব্য মানসিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করে। গ্রেফতারের পর, খুনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁর উত্তর, 'যা হওয়ার ছিল, তা ঘটেছে।' এত ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়েও অনুশোচনার বিন্দুমাত্র অনুভূতি দেখা যায়নি তার মধ্যে।


১৩ই ফেব্রুয়ারি, দ্বারকাপুরী এলাকার একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে দুর্গন্ধের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। ঘরে ঢুকেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের; ভেতরে বিছানায় নগ্ন অবস্থায় তরুণীর মৃতদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় ছিল দড়ির চিহ্ন। পুলিশের মতে, অভিযুক্ত পীযূষ ধামানোদিয়া তার হাত-পা বেঁধে রেখেছিল এবং যাতে চিৎকার না করতে পারে, তার জন্য তরুণীর মুখে প্লাস্টিক গুঁজে রেখেছিল।


ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাম কৃষ্ণলালচন্দানি জানিয়েছেন যে, দুজনে প্রায় এক বছর ধরে একে অপরকে চেনেন এবং সম্পর্কে ছিল। অভিযুক্ত বিবাহ সম্পর্কে অনিরাপদ বোধ করতেন এবং প্রায়শই ঝগড়া করতেন। তিনি সন্দেহ করতেন তার প্রেমিকা অর্থাৎ ওই তরুণী অন্য পুরুষদের সাথে কথা বলছেন এবং এই নিয়েও বিরক্ত ছিলেন যে, তরুণী তার ওপর বিয়ের চাপ দিচ্ছিলেন। 


পুলিশের মতে, ১০ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ওই তরুণীকে তার ভাড়া ঘরে নিয়ে যায় পারস্পরিক ঝগড়া মেটাতে। দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয় কিন্তু বিয়ে নিয়ে আবার ঝগড়া শুরু হয়। রাগের বশে অভিযুক্ত দড়ি দিয়ে তাঁর গলা টিপে মারে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করে যে, মৃত্যুর পরও সে তরুণীর পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তিনি মরদেহের সাথে যৌন নির্যাতনের কথাও স্বীকার করেছেন। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরেই এটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আধিকারিকদের মতে, খুনের পর অভিযুক্ত সেই ঘরেই ছিলেন এবং প্রেমিকার মরদেহের কাছে বসে মদ্যপান করতে থাকেন।


পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পরে তরুণীর মোবাইল ফোন নেয় এবং কিছু ভিডিও একটি গ্রুপে পাঠায়, যাতে প্রেমিকার ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায়। তদন্তকারীরা মনে করেন যে, তিনি সন্দেহ এড়াতে এবং তাঁকে বদনামের চেষ্টা করছিলেন। এরপর যুবক ট্রেনে করে ইন্দোর থেকে পালিয়ে মহারাষ্ট্রের পানভেলে চলে যান।


পানভেলে থাকাকালীন, অভিযুক্ত যুবক ইন্টারনেট এবং ইউটিউবে আত্মাদের সাথে কথা বলার উপায় খোঁজেন। পুলিশের মতে, তরুণীর আত্মাকে ফিরিয়ে আনতে যুবক তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানও করে বলে অভিযোগ।


একজন আধিকারিক বলেন, "সে অনলাইন আত্মাদের সাথে কথা বলার বিষয়ে অনুসন্ধান এবং তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠান করে।" পুলিশের কথায়, তার আচরণ মানসিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। পানভেলের পরে, ওই যুবক মুম্বাই যায় এবং লোকাল ট্রেনে ঘুরতে থাকে। ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। 


পুলিশের মতে, অভিযুক্ত যুবক ওই তরুণীর পরিবারকে চিনত এবং তাদের বাড়িতে যেত। দুজনের এক বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। নির্যাতিতার বাবা আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে, তার মেয়ে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, তার অশ্লীল ছবি এবং ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল করা হয় এবং তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। তিনি এও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত নিজের কলেজের ফি পরিশোধের জন্য মেয়েকে চাপ দিত।


গ্রেফতারের পর সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় অভিযুক্ত কোনও অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। ওই যুবক বলেন, "সব ভুলে যান। যা হওয়ার ছিল হয়ে গেছে। জেনে কী করবেন?" তাকে আরও প্রশ্ন করা হলে সে বলে, "সময় এলে বলব।" পুলিশ জানিয়েছে যে, ডিজিটাল প্রমাণ, কল ডিটেইল রেকর্ড এবং ফরেনসিক তদন্ত রিপোর্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad