কালো দিন: পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার ৭ম বর্ষ, কড়া নিরাপত্তা ভূস্বর্গে - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, February 14, 2026

কালো দিন: পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার ৭ম বর্ষ, কড়া নিরাপত্তা ভূস্বর্গে


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ভালোবাসা দিবসের জাঁকজমকে ডুবে সারা দেশ। লাল গোলাপ নিবেদন, একান্তে সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোতে ব্যস্ত আমরা। ভরা দুপুরে চারদিকে নিস্তব্ধতার মধ্যে আচমকা প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ভূস্বর্গ। চারিদিকে চিৎকার, রক্তে রাঙা হয়ে উঠল চারদিকে। জওয়ানদের কনভয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা, কেড়ে নিল দেশমাতার ৪০ বীর সন্তানকে। ভালোবাসার সেই দিন অর্থাৎ ১৪ই ফেব্রুয়ারি ঘটে গেল ভয়ঙ্কর ঘটনা, সালটা ছিল ২০১৯। আজ ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সেই পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার সাত বছর পূর্ণ হল। সেই থেকে এই দিনটিকে কালা দিবস হিসেবে পালন করা হয় বীর শহীদদের স্মরণে। 


২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে ৭৮টি গাড়ির একটি কনভয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। সেই কনভয়ে ২৫০০-র বেশি জওয়ানরা ছিলেন। আত্মঘাতী সেই বোমা হামলায় চল্লিশজন সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ)-এর জওয়ান শহীদ হন। আজ পুলওয়ামার লেতপোরায় অবস্থিত সিআরপিএফ ক্যাম্পে সকল জওয়ানদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হবে। শহীদ জওয়ানদের স্মরণে ও তাঁদের আত্মত্যাগের সম্মান জানাতে ১৪ ফেব্রুয়ারি "কালো দিবস" হিসেবে পালন করা হয়। প্রতি বছর, এই দিনে সারা দেশ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।


এই সন্ত্রাসী হামলার পর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গোয়েন্দা সমন্বয় বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কৌশল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। হামলার পর, ভারত জম্মু-কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করে। হামলার সপ্তম বার্ষিকীর আগেও সেখানে কড়া নিরাপত্তা রয়েছে; শুক্রবার থেকে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ শ্রীনগর এবং অন্যান্য স্থানে সারপ্রাইজ চেকিং চালাচ্ছে। 


ঠিক কী হয়েছিল সেদিন?

জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে সিআরপিএফ কনভয়ে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালায়। বিস্ফোরক ভর্তি একটি আল্ট্রা-মডিফাই গাড়ি সিআরপিএফ জওয়ানদের বাসে ধাক্কা মারে। এই বিস্ফোরণে ৪০ জন জওয়ান শহীদ হন। এর পাশাপাশি ৩৫ জনেরও বেশি জওয়ান আহত হয়, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক।


হামলাকারী আদিল আহমেদ দার পাকিস্তানি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের সাথে যুক্ত ছিল, যারা এই হামলার দায় স্বীকার করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলওয়ামা হামলার মাত্রা ভারতীয় রাজনীতি, সামরিক নীতি এবং কূটনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। সিআরপিএফ-এর ওপর এই কাপুরোচিত হামলার ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। সেই আবহেই এই ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত জবাব দেয় ভারত। সেই বছরই ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ভারতীয় বিমান বাহিনী বালাকোটের কাছে সেই জায়গায় বিমান হামলা চালায়, যেখানে সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল। 


অন্যদিকে, পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার পর, জম্মু-কাশ্মীরে মোতায়েন নিরাপত্তা সংস্থাগুলিতে ব্যাপক উন্নতি দেখা গেছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ থেকে শুরু করে সরঞ্জাম এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, সমস্ত উচ্চ প্রযুক্তির এবং সর্বশেষ সরঞ্জাম বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি পাকিস্তানের প্রতি একটি বার্তা যে, আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদ কোনও ভাবেই বরদাস্ত নয়। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-পোষিত সন্ত্রাসবাদকে ছেড়ে কথা বলবে না ভারত।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad