ভেজাল দুধ পানে মৃত ১৬, আশঙ্কাজনক একাধিক! অন্ধ্রে চাঞ্চল্য - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, March 22, 2026

ভেজাল দুধ পানে মৃত ১৬, আশঙ্কাজনক একাধিক! অন্ধ্রে চাঞ্চল্য



প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৭:১০:০২ : অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় দুধে ভেজালের এক ভয়াবহ ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভেজাল দুধ পান করে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৩ জনের অবস্থা এখনও সংকটজনক। লালাচেরুভু, চৌদেশ্বরনগর ও স্বরূপনগর এলাকার মানুষ ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই অসুস্থ হতে শুরু করেন। 



দুধ পান করার পর অনেকের মধ্যে বমি, পেট ব্যথা, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গুরুতর কিডনি বিকল হওয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। প্রথমে ২২ ফেব্রুয়ারি কিছু ঘটনা সামনে আসে, কিন্তু তদন্তে জানা যায়, একটি স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা দুধে ‘ইথিলিন গ্লাইকোল’ নামের বিষাক্ত পদার্থ মেশানো ছিল। এই ভেজালের কারণে ২০ জনের বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়, যাদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণও রয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৬ হয়েছে, আর ৩ জন রোগী এখনও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।



এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নারসাপুরম গ্রামের একটি দুগ্ধ কেন্দ্র থেকে শতাধিক পরিবারের কাছে দুধ সরবরাহ করা হয়। দুধ পান করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ক্রেতারা গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ অনুভব করেন, ফলে অনেকের ডায়ালিসিস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তার প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে যে দুধে ইথিলিন গ্লাইকোল মেশানো হয়েছিল, যা কিডনি ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক রোগীর রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়াটিনিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই পদার্থ সাধারণত যানবাহনের শীতলীকরণ তরলে ব্যবহৃত হয় এবং খাদ্যে মেশালে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঘটনার পরই দুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়।



প্রশাসন ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। সন্দেহভাজন দুধ বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর দুগ্ধ কেন্দ্র পরিদর্শন করে দুধ, দই, ঘি ও জলের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পশুপালন দপ্তর পশুখাদ্য ও জলেরও পরীক্ষা করেছে। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে। হায়দরাবাদ থেকে জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য আধিকারিকরা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নজর রাখছেন। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল এলাকায় গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে এবং অধিকাংশ রিপোর্ট স্বাভাবিক এলেও আক্রান্ত পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।



এই ঘটনা খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় দুধই যখন প্রাণঘাতী বিষে পরিণত হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটনে তদন্ত এখনও চলছে। এই দুঃখজনক ঘটনা শুধু আন্ধ্র প্রদেশ নয়, সারা দেশজুড়ে খাদ্যের মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad