কলকাতা, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫:০১ : বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সোমবার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশন মোট ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই উপ-বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট পদে ছিলেন। এর আগেও কমিশন রাজ্যের একাধিক জেলা শাসককে বদলি করেছিল। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে এবং সাধারণত প্রতিটি আসনের জন্য একজন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন। সেই হিসেবে মোট সংখ্যার মধ্যে থেকেই ৭৩ জনকে সরানো হয়েছে। সোমবার এই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়।
এর আগে গত বুধবার কমিশন রাজ্যের ১১টি জেলায় নতুন জেলা শাসক নিয়োগের নির্দেশ দেয়। এই তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার। এদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ জেলায় নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন। যাদের সরানো হয়েছে, তাদের অন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের সূচি ঘোষণার পর থেকেই কমিশন প্রশাসনিক ও পুলিশ স্তরে ধারাবাহিকভাবে রদবদল করে চলেছে। ঘোষণা হওয়ার পরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর একে একে কলকাতা পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও সরানো হয়। একাধিক জেলা শাসক ও ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিককেও বদলি করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নবান্ন সরানো আধিকারিকদের নতুন দায়িত্বে পুনর্বহাল করেছে। অন্যদিকে, শাসক তৃণমূল কংগ্রেস কমিশনের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। এই বিষয়ে আইনজীবী অর্ক কুমার নাগ উচ্চ আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং আধিকারিকদের সরানোর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি কমিশনের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন চলছে এবং সব জায়গার পরিস্থিতি এক নয়, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
.jpg)
No comments:
Post a Comment